Skip to main content

♥ উহ্ আহ্ বাহ্ ♥ --------------মেহেদী হাসান তামিম






 আকাশের মনকালো চমকালো বৃথা আলো, মেঘের পতনে হৃদবিহনে, গহীনে
বরিষধারা বহে শিরীষের বনে রে, কাঁচামাটির ঘরেতে
বালির দামে মিলে যশোগান, ভবেতে আসি ভাবে -" মুই কি হনু!" আহা রে
বংশনাম জন্মস্থানে পরিচয় তাদের, ভাবেতে বাঁচেনা, ওরা কারা হে!
কানকষে মলে তোরা চড়া তারে, আচ্ছামতো দে ডলা, ইচ্ছেমতো চড়া রে ।
জাগে ভুল, হয় ভুল যত ভুলেতে, বিঁধে হুল মনে যে
মারে ওরা ঝাঁকেঝাঁকে মানুষে, ভুলে ভরা এ তরী তে
ওরে ভোলা দেনা দোলা, শুলে চরা, দুষ্টুখিদে ভরা মাতারিকে
কার যাবে গর্দান! জানে কেউ! জানে না রে
বাঁচে শুধু শরীরে, প্রাণে তারা মরে , দেখে যা ও হরি রে!
যার যায় সে-ই জানে, বাঁচাবি যে
বল্ তুই কাহারে, কাহারে ও কাহারে?
পেলেই মওকা বাজায়ে ধামাকা অর্থখোঁজে খামাকা খামাকা
না কর ধ্বংস ওরে বাঁচার এ সুন্দরী দিনগুলোকে
মারে তুরি, সারে ভোজ ভুঁড়ি, আছে যত তাতারী, আহা রে!
আছে তবু কেউ হেথা পেটফাঁকা, না পায় খোঁজ বহুকাল আহারে!
সবে মিলে মার্ বান,ভয়ে হবে টানটান, আছে যত বীচিবড় রাজা যে,
দে টান,দে ওরে খিঁচে, বাজা তুই দুন্দুভি বাজারে
হ তোরা হুশিয়ার, কান পাত্ যে যাহার, -
ওই শোন্ শিঙ্গা তে শেষগান উঠে বুঝি বেজে রে।
দামী গাড়ী সুরসুরি, সাদা ঘোড়া তারি নাকি, টানাটানা চোখ নারী
ওরা কভু মরে নারে , করে সব ধবধব ঝিকমিক চিকমিক
গাড়ীর স্যাম্পু ঘোড়ার কাজল যত ফেণিল ছিলছিল পিচ্ছিল
চুলে নয়রে রামভোদাই লাগা জায়গামতো, ধরে তার পদেতে
লাগে যদি আধো বেশী, কষে জোরে হেইয়া হেইয়াহো লাগারে
লা লালা লা গুনগুন, গাও গান ওগো সোনা টুনটুন
( আহা রে গাধা যে ) বাজে বেশ তোর গলা! শেষ নাকি সে সাধা রে!
বাহ্বা মারহাবা, তালি লাগা তালে, ঝোলে তাল গাছেতে , মন ঘুরে সোনাগাছিতে
ঝোলা সব মধু ভরা, না জানি মধু কত মিঠা যে!
মার্বেল খেলা নাই, গেল সবে একসাথে গেল কৈ
কাঁথা নেই শীতরাতে, কোথা গেল পিরিতের কথা সই!
গোলগোল যত গোল, গোলমালে গেলতো হারায়ে, কালের ভীড়েতে
দেখা মিলে সে মার্বেল ঘরবাড়ী দালান কোঠাতে
উঠানে বিছানে তারা ও সেই তাঁহারাই আছে যে,
বড় ভার অফিসার হয় সে কোটাতে, দিবি নাকি ওরে ভরেরে !
মনে তানে ধনে তনু মনু ধেনু ভোলে, দোলে খুশী খুশিতে,
আঃ! উহ্! সিৎকার সৎকার চিৎকার ধিক্কার ন্যায্য অধিকার
আসে জল জিহ্বাতে বাহারে, আহ্ তার রুপ ভরা বাহ্ রে!
আহাজারি ধ্বজাধারী ভাঙা যত ধ্বজতে
চারিপাশ ভরা রে, দে ওরে পুরোটা ভরিয়ে
কাঁচের বোতল টিনের বোতল, খেল হবে খতম
একদা হবি কতল, প্লাস্টিক যত গত রে, গতরে
লাল পানি, নীল গোলাপী বিলেতি রঙিন দারু, আছে কেরুও
সাথেই আছে আড্ডায় নামীদামী পোস্ত পেস্তা ও গোমস্তা
চাঁচাছোলা, ফালিফালি কচি শসা পোড় খাওয়া মাংস, কাজু রে
লাগে নেশা অমানিশা, নিশিরাতে নিশা ও নিশাকে
ভাগে নিশা আহ্ নেশা, নিয়ে সব ভাগে সে আছে যা পকেটে।
মরিমরি হায় মরি, ধরাকে তারা করে সরা রে,
খাবি বাবা খা তুই, খাবি ধরা রামধরা
চাস যদি খেতে একাএকা খা তুই ধরা হে।
হুরের পাগল হুরের ছাগল, মিহি সুরে ডাকো ম্যাহ্ ম্যাহ্
ওরে তুই নে লুটে আছে যত মজা হে
যাবে জুটে মজা সব যদি যাস মাজারে, জোর বাড়া মাজা তে
চাস যদি শুতে তুই কামনায় ভরা সে মজা তে
খাও ঘুষ নাই হুশ, মার ঢুঁস আছে যা মরা কে
মরা শব শুধুযে, মরারাই ঘুরেফিরে বারেবারে মরে রে।
সিঁড়ির সাধ সাধ্যে অতি, রাতে রতি বাড়ে ক্ষতি শরীরে
ভাগাড়েতে হাসাহাসি ঠাসাঠাসি পাশাপাশি ঘোরে মাছি মিছেমিছি
হাতে হাত, ঠোঁটে ঠোঁট, জিবে জিব, বুকে বুক, নাকে নাক
আরো কিছু পিষে মরে, ঘষে জোড়ে, জোরে যশে উড়েরে।
গুরুনাম পেন্নামে দিনশুরু, পেট পূজা ভোজনে
যায় কেনা আস্থার ভাজন সারা দিনমান ভজনে
বাজাবিই যদি তুই অসুর সেই বিণ
মিলিবেই মিলিবে যত পুকুর ডোবা চাস ঋণ
করবি যদি পুকুর কেন, সাগরচুরি কর রে তুই
শুধিবি চিন্তা! বাবারে শুধিসনে ইচ্ছে তোর হয় যেদিন।
খেলাপী তারা সবে, থলে হাতে ছেঁড়াফাটা
তালি মারা নিয়ে হাজিরে বগলেতে বাজিয়ে
ওরে বাবা, এরা সব দেখি হাজী হে
আছে কেউ ডাকে তবু নচ্ছার হতচ্ছাড়া, পাজী সে!
সে যে ভারি খাপখোলা ফুলতোলা মনভোলা তরবারি
চোরের আম্মু রাঁধে স্বাদেভরা মনকাড়া ভারি সে তরকারি
আছে যত হাতকড়া, থাকে পড়ে মরীচিকা, মরিচায় ধরে তারে ।
তোর সব বাণী মিছে খানদানী
বিপণী বিতান যত বিস্তারে বিস্তরে
ভেজালে মারে তোকে সাথে তোর ছানাপোণারে
ভরে দে বিষই শুধু তার পেয়ালাতে
ঠেশেই ধরে এক চিপে বানা তাকে বাঁজা রে
ঘূর্ণাবর্তে মায়ার মর্ত্য, ঘুরে পিছু মায়াডোর কিছু ঘোরেতে
যত দেখ মিছিরি সব তারি মিছে যে,
 ঘরে পালে ধরে বুকে সুন্দরি মাসি অসি পিসিরে।
করে বেশী গলাবাজি, নিজেকে বিকোতে রাজী
হায় কপাল! সে যেন কেচ্ছার গোপাল
কি বলিস! কপাল তোর লিখা নেই পাজিতে!
খুঁজিস লটারী, নাম্বার তুই চাস পেতে বাম্পার
চোখ বুজে খুঁজ আরো, খুঁজেখুঁজে হয়রানি
আছে পিছে তোর হা-ভাতে রাণী।
হাত থেকে খুল চুড়ি, কপালকে
খুঁজ শুধু তোরই পাঁজরে।
আইলো যে, আইলো হে, ওই বুঝি অাইছে, খাইছে রে
পায়ে ধর ডরা তুই, কেঁদেকেটে নাকেমুখে ভাসারে
ওই আসে সব ভুতে বিদ্ঘুটে কালাাকালা
একসাথে মিলমিশে কাঁধেকাঁধ যেন মৃত্যুভেলা
ভাসবে নিয়েই তোকে বুঝবি এবার ঠেলা
পালা তুই জান নিয়ে, ভোঁ ছুটে
মটকাবে চটকাবে সটকাবে, দেখবি তুই ভূতখেলা।

Re - Constructed
25.10.17

Comments

Popular posts from this blog

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

প্রিয় সুনীল, তোমাকে বিদায় বলিনি

অনেক অনেক সময় কেন নেই আমাদের। আমার খুব খুব প্রিয় সাহিত্যিকের একজন যার উপন্যাস পড়ে বড় হওয়া, যার চরিত্রগুলো পড়ে কখনো অনিমেষ, কখনো অর্ক হতে ইচ্ছে করতো আবার কখনোবা মাধবীলতার মতো কাউকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে তীব্র ইচ্ছে করতো, যাঁর কবিতা পড়ে জেনেছি কেউ কথা রাখেনা, অমলকান্তির বন্ধু হতে ইচ্ছে করতো সেই ছোটবেলার ভালোবাসা এমনকি বড়বেলার নায়ক যার মতো করে লিখতে চাই বাংলা সাহিত্যে সকল অলিগলিতে পদার্পণ করে, সেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যু দিবস। আজ ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের একদিকে যেমন জন্মদিন তেমনি সুনীলে প্রয়াণ দিবস। তাঁদের দুজনের কেউই আজ নেই এ ধরণীতে। তারপরেও তারা না থেকেই সবচেয়ে বেশীরকম আছে বাঙালীদের স্বত্তায়। সুনীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর লিখা কবিতা -

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...