Skip to main content

Posts

Showing posts with the label #tamimbooks

♥মিশকালো হুরমতি ও তার পিতা টেংরামোল্লার গল্প♥------- মেহেদী হাসান তামিম

মিশকালো হুরমতি ও তার পিতা টেংরামোল্লার গল্প -------মেহেদী হাসান তামিম জীবনভর যুদ্ধ আর যুদ্ধ, যুদ্ধ আর জীবন, জীবন আর যুদ্ধ, যুদ্ধ ও জীবন দুটো শব্দের একটাই অর্থ হুরমতির কাছে - কয়টা চাল, একমুঠো ডাল, পঙ্গু বাপের জন্য বিড়ি আর বেগুনবাড়ি বস্তির ছোট্ট ঘরটার ভাড়া ৪০০ টাকা, এর থেকে বেশীকিছু কখনোই তাদের চাওয়া পাওয়ার আঙিনাতে মনের ভুলেও প্রবেশ করতে পারেনি। শরীরের রং কাল আলকাতরা থেকেও মিশকালো হওয়াতে গতর নিয়ে কোনও চিন্তাও নেই হুরমতির। চিন্তা, সেওতো তখনি আসে যখন কোনকিছু নিয়ে কারো আগ্রহ থাকে, আকাংখার সৃষ্টি হয়। আগ্রহ, আকাংখা! সশব্দে বড় একটা দম ফেলে হুরমতি। নিজেকে যাচাই করে নিতে বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে, এপাশে কখনো ওপাশে চুল বেঁধে, খোপা করে, না করে, টকটকে লাল পলাশফুল গুঁজে, না গুঁজে, সূর্যালোতে, সূর্যহীণ সময়ে - কোনভাবেই হয়নি, হয়নি যখন এনিয়ে আর কোন আশা আফসোস কোনটিই মনের ভেতরে ঠাঁয় পায়নি। রাস্তায় চললে ফুড অফিসের সামনে বসা লেংড়া ফকির আতর আলীও একবারের বেশী দুইবার তাকায় না। আতর আলী তো আর যেনতেন লেংড়া না, দুইপা নাই এমন একজন মানুষটাও তার উপস্থিতি গ্রাহ্য করেনা, এনিয়ে হুরমতির বুকে...

♣------স্বাদ--------♣ ----------মেহেদী হাসান তামিম

সম্প্রতি সম্মানিত হজযাত্রীদের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ছোটগল্প - ♣----------------স্বাদ-----------------♣ *****মেহেদী হাসান তামিম রৌদ্রপ্রখরতা স্বাভাবিক থেকে হয়ত একটু বেশীই হবে, মনে হলো নান্টুর, অন্যান্য দিনে এসময়েই সেই পাসপোর্ট অফিসের সামনে যায় কিন্তু এ পরিমান ঘাম হয়না, কয়েকজন রিক্সাওয়ালাকেও দেখা যাচ্ছে হুড তুলে নিজের সিটে দুইপা আর যাত্রীর বসার সিটটিতে শুয়ে আরাম করছে, মনে হলোনা ডাকলে কেউ শুনবে। নান্টুরও সেই খররৌদ্রের ভিতর দিয়ে হাটতে ইচ্ছে করছিল না, চায়ের দোকানের পাশের ছেঁড়া চটের ছাদ দেওয়া রোদের বিপরীতে শুধু একটুখানি ছায়া সৃষ্টিকারী জায়গাটিকে দাঁড়ানোর জন্য বেছে নিল সে। চায়ের দোকানী ছেলেটার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম বেয়ে পড়ছে। কে জানে ওই ঘামের দু'এক ফোটা চায়ের কাপে পড়ে বলেই হয়ত তার চায়ের এত হাঁকডাক। প্রতিদিন বাসস্টপেজে নেমে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত রিক্সা ঠিক করে সেই রিক্সাচালককে নিয়ে এই দোকানে দু'কাপ চা খেয়ে, একটা স্টার সিগারেট আরাম করে ধরিয়ে তারপর রিক্সায় উঠে নান্টু। যে নান্টুর ঘন্টায় গড়ে এককাপ করে চা না খেলে হয়না সে বেশ কিছুদিন ধরে শুধু চা না কোনকিছুই খেয়...

♥ ফুংসুক ওায়ংরু বা সোনুম ওয়াংসুক;অনুপ্রেরণা, আদর্শ, আবেগ আর ভালোভাসার প্রতিশব্দ ♥

ফুংসুক ওায়ংরু বা সোনুম ওয়াংসুক;অনুপ্রেরণা, আদর্শ, আবেগ আর ভালোভাসার প্রতিশব্দ ***********মেহেদী হাসান তামিম ফুংসুখ ওয়াংরু'র কথা মনে আছে! ভারতের তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী আলোচিত ও দর্শকপ্রিয় 'থ্রি ইডিয়টস' মুভিতে আমির খান যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তার নাম। জানি বেশীরভাগই বলবেন ' 'ফুংসুক ওয়াংরুকে ' মনে না রাখার কোন কারন আছে কি! কিন্তু যদি বলি সোনুম ওয়াংসুক! অনেকেই জানেন, আবার অনেকেই জানেন না যে ওই মুভিটি বাস্তব ঘটনা থেকেই চিত্রিত এবং সেই চরিত্রটিও বাস্তব জীবনের একজন রক্তমাংসের সত্যিকার মানুষ আর তিনিই হলেন এই সোনুম ওয়াংসুক। জম্মু ও কাস্মীরের শীত আর বরফে আচ্ছাদিত শহর লাদাখ। সালটা ১৯৬৬। সে বছরেও লাদাখে প্রচুর তুষারপাত হয়েছে, তাপমাত্রাও সেখানকার স্বাভাবিক গড় মাত্র মাইনাস ২০ ডিগ্রী। এমনিতেই লাদাখের মূল ভূমি থেকে আরো প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রাম তার উপরে শীতের তীব্রতা। পশুপাখিরাও ভয়ে থাকে সেখানে বসতি গড়তে মানুষ তো পরের কথা। খাবারের কথা বাদই দেওয়া হলো তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানিটার অভাবও লাদাখ জুড়ে নিদারুন। সেই গ্রামে হয়তবা নিরুপায় হয়ে অথবা প্রকৃতির বিরুদ্ধ...

কয়েকজন দেবদূত ও একডেক্স খিচুড়ীর গল্প -------মেহেদী হাসান তামিম

কয়েকজন দেবদূত ও একডেক্স খিচুড়ীর গল্প ------মেহেদী হাসান তামিম - নে বাপধন, এলা এইডাই খায়া নে। আইতত তেরাণ আসবাইর পারে। তখোন হামরা খেঁচুরি খামোনে। মোকাররম নিজেও কথাটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে আছে। তবু সাত বছরের অতটুকু ছেলেটার কষ্ট সহ্যও করতে পারছে না। ছেলেটার মুখের দিকে তাকালেই বাপের অন্তরটা হুহু করে উঠছে। এমনিতেই মুখটা অনেক ছোট্ট তার উপর একদিন তেমন কিছুই না খাওয়াতে সেটা শুকিয়ে যেন বাতাসে উড়তে থাকা পায়ের নীচে পড়লে মরমর শব্দে চূর্ণ হয়ে যাওয়া বড়গাছগুলো থেকে পড়ন্ত শুকনো মরাপাতার মতোই মরমরে দেখাচ্ছে আমির আলীর মুখটা। নিজের উপর খুবই বিরক্ত মোকাররম কেন ছেলেটারে মায়েদের সাথে আগেই শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠায় দিলনা। অবশ্য তখনো বানের পানি এত দ্রুত যে বেড়ে যাবে কেউই বুঝে উঠতে পারেনি। এতো বয়স্ক, গ্রামের সবচেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ ইদ্রিস আলী মোকাররমের তাড়াহুড়োকরে মা বৌ আর দুইটা আন্ডাবাচ্চাকে শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে দেখে বলে উঠেছিল, - কি মিয়া, তুইতো দেখছ জোর করি বাণ নামাবু এইঠেকোনা। আরে অত্তি খুলিত দেখি আনু পানি এলাও বিরিজের মেলা নীচত আছে। ইদ্রিস চাচার সেই কথাটা...

♥ নৈঃশব্দিক কান্নাগুলো ♥ ---- ★★ মেহেদী হাসান তামিম। ★★

- তুমি কোনভাবেই যেতে পারবে না। - কেন আমাকে আমার মতো চলতে দিসনা অয়ন। তোর স্বাধীনতাতে কোনদিন বাঁধা দিয়েছি! তবে, আমার সিদ্ধান্তে শুধুশুধু কেন বাঁধা দিচ্ছিস? - বাবা, অযথা কথা বলে কোন লাভ নেই। আমি যখন ছোট, তখনকি আমাকে সবকিছু করতে দিয়েছিলে, বাঁধা দাওনি? এখন থেকে তুমি বাচ্চা, আমিই তোমাকে শাসন করব। - এহ! ৬২ বছরের বুড়োকে বাচ্চা বলবি আর আমি মেনে নেব! - যা'কিছুই বল, তোমাকে কোনভাবেই বৃদ্ধাশ্রমে যেতে দিবনা, দশটা-পাঁচটা না একটিমাত্র বাপ আমার। অঞ্জলি কোথায়, পাগল বুড়োটাকে তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখ। - বৌমা, এর কথায় তুমি হাসছ! - না বাবা, বাপ-ছেলের ব্যাপার, আমি হাসিনিতো। দেখি হাতটা, আপনার প্রেসার মাপবো। - আর প্রেসার! হতচ্ছাড়াটাই প্রেসার বাড়িয়ে দিচ্ছে। - অঞ্জলি, আর দেরী করতে পারবনা। বাবা আসি, সন্ধ্যায় দেখা হবে। - দেখেছো, বাদরের মতো দাঁতকেলিয়ে তোমার জামাই বেরিয়ে গেল। - বাবা, আপনারইতো ছেলে। - ধুর! বোঝার চেষ্টা কর। সফিকুল, নারায়ন যাচ্ছে, বন্ধুদের কাছেও যেতে দিবেনা আমাকে? - বাবা, উনারা যাচ্ছেননা, যেতে বাধ্য হচ্ছেন! - ওই হলো, একই। - বাধ্য হচ্ছে আর যাচ্ছে এক'না বাবা। তাদের সন্তানদের কাছে বা...

আরো আরো ঝরো ------- মেহেদী হাসান তামিম

আরো আরো ঝরো ------- মেহেদী হাসান তামিম ছিল খুব প্রয়োজন এমনি এক জাগতিক বর্ষণ জগতের পরতেপরতে ক্রমে জমেছে যে পাপ আলিঙ্গন। যায়না মোছা তা, যায়না ধোওয়া অন্তর ভাসে শুধু, পাপহর নদীতেই করে অবগাহন। আরো জোরে ঝরো তুমি, ঝরো ক্রমাগত ভাসিয়ে দাও জমেছে মনের অন্ধকারে কালিমা যত ঝরে ঝরে - জাগাও জীবন জ্বালাও তুমি, প্রেমের সে বহ্নিশিখাই শুধু জ্বালো। এই বৃষ্টিদিনের রাত্রিতে ২০ অক্টোবর, ঢাকা।

ছেরিস্লোক ---- মেহেদী হাসান তামিম

ছেরিস্লোক মেহেদী হাসান তামিম এ ছেরি, তোর নাকের ডগায় দেখছি বিন্দুবিন্দু ঘাম সকাল বিকাল ঠিকমতো যপিস তোর ইশ্বরের নাম? এ ছেরি, ভাতারকে ভালোবাসিসতো দিয়ে তোর জান হোক অনিচ্ছা তোর, মিটাস তো মনমতো তার কাম? এ ছেরি,শাশুড়ির মাথাতে দিসতো নিয়ম করে তেল শ্বশুর ফিরলে ঘরে, বানাসতো ঠান্ডা শরবত-এ-বেল? এ ছেরি,তোর ননদকে ঠিকমতো করিসতো সম্মান শরীর খারাপ করলেও রাঁধবি, রাখতে ভাসুরের মান। এ ছেরি, এতক্ষণ! কেমনতর মেয়েমানুষ বল দেখিনি মাত্রতো একভার তরিতরকারি করিস যে বেচাকিনি? এ ছেরি, দশবাড়ী দুধ দিতেই তো শেষ করিস দুপুর, নোংরা কাপড়গুলো আনবে কে ধুঁয়ে, গিয়ে পুকুর? এ ছেরি, কামচুন্নি তোরযে দেখি দিন নাই রাত নাই সুযোগ পেলে বিছানায় পড়ে ফালতু গা এলানো চাই! এ ছেরি, সারাদিন যদি এমনভাবে করিস শুধু শুই শুই ছাদে গিয়ে কাপড়গুলো কে তুলবে, কে উঠবে মই? এ ছেরি, সময় কিন্তু তোর ভীষণ কম, মাত্র ২৪ ঘন্টা পুরো সময় করবি কাজ রাখতে চাইলে সব্বার মনটা। এ ছেরি, তোর মাথা তো দেখি হয়েছে পুরাই খারাপ কিসের আবার ছুটি! শিখায়নি তোকে কিছু তোর বাপ?

গদ্যকবিতা -- ♣ বরষা নামল বুঝি! ♣ -- মেহেদী হাসান তামিম

গদ্যকবিতা ♣ বরষা নামল বুঝি! ♣ মেহেদী হাসান তামিম জানো কষ্ট কি! কষ্ট নিয়ে আর কি বলি। কষ্ট উহ, কষ্ট আহা। কষ্ট ভোগায়, না ভাগে। কষ্ট বিবর্ণ, কষ্ট তিক্ত, নীল, কষ্ট বিশ্রী। কষ্ট ভীষণ রকমে কষ্ট, কি যে কুৎসিত মায়াবতী।তোমার জন্য সন্ধ্যাছটা, মৃন্ময়ী অব্যয়ী শরৎ। আমার তরে অবিরাম কাদামাখা বরষাকাল, স্নিগ্ধ সকালে খুব হুট করে নামা অজর বর্ষণ, জলধারা শ্রাবণ কখনো প্লাবন। কষ্ট নিভৃতচারী, থাকে বাঁধা। সে কাদাখোঁচা কাদাজল । দগদগে, থকথকে। মনের অজান্তে শরীরে রি রি তোলা জ্বালাতন, যায়না তাকে কভু এঢ়ানো, চায়না যেতে সে ছেড়ে। আমার মধ্যিখানে এ বর্ষাবসান নয়তো দু'মাস পরে, আজন্ম একান্তচারী সঙ্গীনি, যেন ছায়াসাথী। ছায়ারাও করে অভিমান রাতবিরাতের আধারে মাঝেমাঝে, যায় পালিয়ে। বর্ষা তো যায়না, কাদা যে যায়না। থাকে স্লেটকালো অন্ধকারে, থাকে আরো বেশী। সময়ে থাকে, অসময়ে আসে বেশীবেশী। সে নশ্বর চিরবিবাগী। সদা বিরাগী বছরবছর। কতবার সে সফেনের কাছে পর্যন্ত পৌঁছেছি! খুব কাছাকাছি। চাইলে হয়তবা এক লাফে ছোঁয়াও ছিল সম্ভব। সব সম্ভাবনা হয় খুন, হয় উদ্ধত খুনে ফেরারী। সম্ভাবনা ভেঙে কী স্পষ্টতায় 'সম্ভব' ও 'না' দুটি অক্ষর প্রপঞ্...

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

?!?! ( হন্তারক চিহ্ন) -----মেহেদী হাসান তামিম

কে যেন! সে যেন সে ই তো! সে ই। সে আসে যায়! কে যায়! সে ই যেন সে ই তো! সে চলে যায় কেন তার এ আসা যাওয়া যাওয়া, যাওয়া শুধু আর মাঝেমাঝে আসা! কে তাকে খায় ! দ্বিধা ? দ্বিধা ই হবে। দ্বিধাই তো। দ্বিধা ই হায় দ্বিধা। #কবিতায়_খেলা

বুদ্ধ তোমার শরণ নিলাম♣ - মেহেদী হাসান তামিম

এক. বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি - আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম। ধম্মং শরণং গচ্ছামি - আমি ধর্মের শরণ নিলাম। সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি - আমি সঙ্ঘের শরণ নিলাম। লুম্বিনি কানন, শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি তীর্থ কপিলাবাস্তুর রাজা শুদ্ধোধনের পুত্রজন্ম সিদ্ধার্থ মা রানি মহামায়া সাতদিন বাদ করিলে দেহত্যাগ সৎমা মহাপ্রজাপতি গৌতমী হাতে লালন-পালন এটাই তো তাঁর হেতুমূল গৌতম বুদ্ধ নামকরণ। কপিলাবাস্তু নগরীতে প্রবেশিলেন সন্ন্যাসী কপিল ভবিষ্যৎবানী গৌতম হবে সিদ্ধার্থ লভিবেন নির্বাণ অথবা দিগবিজয়ী মহারাজা নয়তবা মানব মহান। রাজকন্যা যশোধরাসাথ হল যে বিবাহ বয়স যখন ষোল রাজার আশ উদাসীন পুত্র বিবাহে হবে সংসারসক্ত পুত রাহুল এমনকি চার ঋতুর প্রাসাদেও নিরাসক্তি তার পারেনা রুখতে সিদ্ধার্থে যা পিতৃরাজের চিন্তাপাহাড়। সন্ন্যাসী সারথি ছন্দক সাথে দৈবচক্রে দেখা সিদ্ধার্থে দেখালেন সে সাধু তাকে জগৎসংসার যে দুঃখময়, মর্মোদ্ভেদ সিদ্ধার্থর মায়া রাজ্য সম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়। বয়স যখন উনত্রিশ দুঃখোৎস খোঁজে করেন গৃহত্যাগ ভ্রমি দূর বুদ্ধগয়ায় বসিলেন বছরছয় সাধনা কঠোর বোধিবৃক্ষতলে নিরন্তর তপস্যাসাধনে লাভ বোধিজ্ঞান পরম সম্পদ সে বুদ...

মেরুদণ্ড ------- মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য ধ্রুপদ একদল চাকরিজীবী লোকজনের সাথে হাটছিল। অবশ্য জায়গাটি যেহেতু অফিসপাড়া মতিঝিল, আর সময়টা যেহেতু বিকাল পাচটা বেজে পাচ তাই সে ধরেই নিয়েছে আশেপাশে যাদের সাথে হাটছে তারা সবাই চাকুরীই করে থাকবে। তার কথা ফেলেও দেওয়া যায়না, যুক্তি আছে। হাটছে হাটছে। তার যেদিকে ইচ্ছা। ওর তো আর অন্যদের মতো নির্ধারিত কোন গন্তব্য নেই। হাটতে হাটতে ইউনুস ট্রেড সেন্টারের দিকে এগুতেই একটা মানুষের জটলা দেখতে পেলে। ধ্রুপদের আবার এসব ব্যাপারে উৎসাহের কমতি নেই। এমনো অনেক দিন আছে রাস্তায় একটা কারের সাথে একটা রিক্সার ধাক্কা নিয়ে দুজন ড্রাইভার ঝগড়া করছে। এমনটা সে যদি শাহবাগ থেকে ৩নং বাসে ঠেলাঠেলি করে উঠে ভীড়ের মধ্যে চ্যাপ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফার্মগেটে এসে কোনমতে একটু বসার জায়গা পায়, তবু টঙ্গী যাবার সময় খিলক্ষেতে ঘটনা ঘটতে দেখলে সিট ছেড়ে দিয়ে অনুনয় বিনয় করে, তাতে কাজ না হলে ফাঁপড় মেরে হলেও বাস থেকে নেমে, তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে সে ঝগড়া দেখবে। ট্রেডসেন্টারের সামনে গিয়ে কোনমতে শরীরটাকে জটলায় গলিয়ে দিয়েই খুব উৎসুক হয়ে সে উঁকিঝুকি মেরে ঘটনার মর্ম ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করল। সে যা দেখল তাতে কি...

গরীব vs বড়লোক ------- মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য সময় - সকাল ৮:৪০ স্থান - ৭ নং শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর চরিত্র - ১) ধ্রুপদ - বয়স ৩৮ এর কাছাকাছি। কয়েকমাস হল বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এডমিন এর চাকরিতে যোগদান করেছে। ২) আক্কাস আলী - বয়স চল্লিশোর্ধ। ঢাকা শহরের আর দশজন রিক্সাচালকের মতোই রিক্সা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে। রাতে বাড়ী ফিরে, গরম ভাত খেয়েই বউয়ের শরীরে ঝাপিয়ে সুখ খুঁজে নেয়। "ধুর মিয়া ফাজলামি করো আমার লগে! তুমি জানো আমি কে! কোন আক্কেলে তুমি ৫০ টাকা চাও! ধরো, ৪০ টাকা দিছি নিয়া বিদায় হও", কিছুটা গলা চরিয়েই কথাগুলো বলে ধ্রুপদ। আক্কাস খানিকটা ভয়ে উত্তর দেয়, ভাইজান আপনে কে এইডা আমি কেমনে কমু। কাঁঠালবাগান ঢাল থাইকা এইহানে আইলে বেবাকে ৫০ টাকাই ত দেয়। - তুমি মিয়া অযথা কথা বাড়াচ্ছ । ধরো এই ৪০ টাকা। নিলে নাও না নিলে ফোটো। এবারে আক্কাস আলী আর কথা না বাড়িয়ে ৪০ টাকা নিয়েই বিদায় হয়। ধ্রুপদের মুখে একটা বিজয়ীর হাসি ফোটে। যাক ঝাঁড়ি মাইরা কাজ হইছে, দশ টাকা তো বাঁচানো গেল, কম কি! ** সময় - ৮:৪১ স্থান - ৭ নং শেখেরটেক। ধ্রুপদের অফিসের সামনের রাস্তায় চা সিগারেটের দোকানে। চরিত্র: ১) ধ্রুপদ ২) রিপন ম্যাও - বয়স ১৮ ত...

ট্রাফিকজ্যাম ---- মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য সময়: দুপুর ১১.৫৬ স্থান : প্রভাতী পাবলিক বাস এয়ারপোর্ট গোল চত্বর চরিত্র: ১) কুদ্দুস : বয়স ২২ এর বেশী নয়। পড়াশোনা পঞ্চম শ্রেণী পাস। কিছুদিন হলো গাজীপুর BRTC তে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে। রিটেন পরীক্ষায় পাস করেছিল একেক প্রশ্নে চারটা উত্তরের একেকবার একেকটা থেকে উবু ১০ ২০ ৩০ ৪০ গুনে যেখানে গিয়ে ১০০ তে ঠেকত সেই ঘরে গাঢ় করে বৃত্ত ভরাট করে। মালিকের নির্দেশমতো ৫০ টা প্রশ্নের মধ্যে গুনেগুনে ২৫ টা প্রশ্নে অবশ্য কোন বৃত্ত ভরাট না করে কলমের কালিটা বাঁচাতে পেরেছিল। কারণ এমনি ১০ লাফ দিয়ে দিয়ে ১০০ পর্যন্ত গুনতে পারলেও টানা ১, ২, ৩ করে এগুগে এগুতে বড়জোর ১৬ পর্যন্ত যেতে পারে, বারবার সে যখন ১৬ পর্যন্ত গিয়ে হোঁচট খেয়ে কেঁচেগণ্ডূষ হচ্ছিল তখন পাশের ওই পরীক্ষার্থী স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসাতে শেষ রক্ষে পঁচিশটা প্রশ্নের উত্তরের ঘর ফাঁকা রাখতে পেরেছিল। যদিও পরীক্ষা শেষে একবোতল ঠান্ডা আর একটা গোল্ডলীফ সিগারেট বিনিয়োগ করেছিল ওই ব্যাটার পিছনে তবুও সে মহাখুশী। প্রাকটিকাল পরীক্ষার সময় বাস চালাতে গিয়ে সাতটির মধ্যে তিন চারটি খাম্বা পড়ে গিয়ে বহুদূর গড়িয়ে গিয়েছিল, ত...

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ------ মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য সময়: ভোর সাড়ে ৫ টা স্থান - কাঠালবাগান ঢালে ধ্রুপদের ভাড়া বাসা চরিত্রঃ ১) বাড়ীওয়ালা বখতিয়ার উদ্দীন - বয়স ৫৫ এর কাছাকাছি। বিশাল বিত্তশালী সম্পদবান। গুলশানে ২টি, বনানীতে ১টি প্রমান সাইজের ফ্ল্যাটবাড়ী থাকলেও দুইটা বেশী টাকার আশায় কাঁঠালবাগান ঢালের অন্ধকার ঘুপচি কানাগলির ভেতরে বৃষ্টির সামান্য পানিতে একহাটু জল জমে যাওয়া শ্বশুর আব্বাজান সূত্রে প্রাপ্ত ছোটছোট তিন ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ীর সবচেয়ে ছোট ইউনিটটিতে থাকতেই ভালোবাসেন। বাড়ীটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো দিনের বেলাতেও ১০০ ওয়াটের কম পাওয়ারের বাতি লাগালে ঘরটা ঘুটঘুটে গা ছমছম করা অন্ধকারময়ী বলে মনে হয়। ২) ধ্রুপদ ৩) আনছার আলী - বয়স ৬৫ হবে। সে এই বাড়ীটির দারোয়ান। পেটের তাগিদে তাকে এই বয়সে এসেও কাজ করতে হয়। তার থেকে বয়সে কত ছোটরা চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছে, আরাম আয়েশে দিন গুজরান করছে, রিটায়ারমেন্টে পাওয়া টাকাপয়সা দিয়ে হিল্লীদিল্লী করে বেড়াচ্ছে অথচ আনছার আলীর গা-গতরে সামান্য কিছু বল অবশিষ্ট্য না থাকলেও সে ই এখন এ পাঁচতলা বাড়ীটির মূল নিরাপত্তা প্রহরী। ঘটনা: কাকডাকা ভোররাতে একটা কুক্কুট পর্যন্ত তখনো ডাকেনি, কুকুরগুলো সারারাত ঘেউঘেউ করে এ সময়...

অশান্তির থেকে কষ্ট উত্তম; জীবনের তিন অংশের ব্যবচ্ছেদ ♥ ------------- মেহেদী হাসান তামিম

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন: প্রীতিলতা ভেবেছিল রোমান প্রেমে গদগদ হয়ে তাকে যে সংক্ষিপ্ত নামে ডাকবে তা হয় প্রীতি নয়তো লতা, আর এর যদি একটু বেশী গদগদ হয় তবে বড়জোর প্রিয়ে বলে ডাকবে। এর আগের তার সব বয়ফ্রেন্ডরা তো তাই করেছিল। কিন্তু রোমান যে আসলেই ব্যতিক্রম সেটা আবারো করল প্রমাণ। যেদিন ডিপার্টমেন্টে তাদের প্রথম ক্লাস ছিল প্রীতি সেদিন ঘুণাক্ষরেও বোঝেনি এই কাল বর্ণের কোঁকড়ানো আউলাচুলের বাউলাবেশের ছেলেটির সাথেই যে তার প্রেম হবে। যদিও রসের ছিটেফোটাও নাই তবুও ডিপার্টমেন্টের নামটি হলো রসায়ন। প্রীতি কোনদিন এটাও ভাবেনি তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কাঠখোট্টা নিরস বিভাগে ভর্তি হতে হবে। এমনিতে সারা জীবন কেটেছে কুমিল্লা সরকারী কলেজের গণিত বিভাগের মাস্টার যিনি শুধু সে বিভাগেরই না পুরো কলেজের সবচেয়ে কড়া মাস্টার হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন, তার কন্যা পরিচয়ে। বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা তো বটেই কুমিল্লা শহরের আশেপাশের এলাকার ছেলে মেয়েরাও তার কাছে যেত প্রাইভেট পড়তে। অন্য কোন ছাত্রছাত্রীরা ডাকলে প্রীতির কোন সমস্যা ছিলনা কিন্তু তার কলেজের বন্ধুরা যখন তার বাবাকে পাগলা কানাই বলে ডাকতো তখন তার শরীর রাগে ক্ষোভে কিটকিট করে উঠ...