Skip to main content
"প্রিয়কবির জন্মদিন আজ; ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিরন্তর"

সবুচ্ছাদিত অন্তরভূমির নাগরিক কবি: আমাদের শামসুর রাহমান
----------------- মেহেদী হাসান তামিম

রবীন্দ্রবলয় থেকে বেরিয়ে যে কবিতা লিখা যায় তার সাহস দেখিয়েছিলেন পঞ্চপান্ডব হিসেবে খ্যাত একি সাথে যারা আধুনিক নাগরিক কবিয়াল– বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে ও অমিয় চক্রবর্তী। আমরা জানি, মধ্যযুগের শেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক-কবি। তবে তাকে কখনোই বিশুদ্ধ নাগরিক কবি বলা যায়না কারন তার কবিতায় হয়ত নগর উঠে আসতে শুরু করেছিল ঠিকই কিন্তু আদৌতে পল্লীজীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি পুরোপুরি। নগর ও পল্লিজীবনের বিবেচনায় সে পঞ্চকবিও আক্ষরিক অর্থে নাগরিক কবি হতে পারেনি। তবে এ কথা অস্বীকার করার জো নেই রায়গুনাকর যে আধুনিক নাগরিকতার রিলেরেসের শুরু করেছিলেন তাঁর ব্যাটনটি পঞ্চপান্ডবের হাত ধরে যোগ্য উত্তরসূরী শামসুর রাহমানের হাতে পৌঁছেছিল। পারিপার্শ্বিকতা হোক অথবা অনিচ্ছায়, আষ্ঠেপৃষ্ঠে নগর সভ্যতার বেড়াজালে আটকে গিয়ে হলেও শামসুর রাহমান বাংলা কাব্যে নাগরিক কবিতার শুদ্ধতম জ্বলজ্বলে নক্ষত্র। ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার কৃষ্টিকালচারের মধ্যে বড় হয়েও তাঁর হাতে ছিল যেন ঐশ্বরিক জাদুময়তা। তিনি শহুরে বিবর্ণ দিন, ধোঁয়াশার দংশন, হংসমিথুন কোলাহল, বালিকাপ্রেম, কিশোরীরর জন্য দু'ছত্র নৈঃস্বর্গ, নৈঃশব্দ, নিস্তব্ধতা, যন্ত্রণাদগ্ধতা, অশ্রুকাতরতা, চলোর্মিচঞ্চল কণ্টকিত প্রতিযোগী মনন, একদিকে ব্যান্ডেজ অন্যদিকে অস্ত্রদান, অসহিষ্ণু পথচলা সহ পরিপূর্ণরুপে নাগরিক জীবনের যাবতীয় প্রপঞ্চসমূহ সফলভাবে এঁকেছেন আমাদের শহরের কবি শামসুর রাহমান।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' (১৯৫৯)। তারপর একে একে লিখেন রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে এ চারটি কাব্যগ্রন্থ। এর সবগুলি রচনা করতে শামসুর রাহমান সময় নিয়েছেন বিশ বছর। এরপরে যে পরিসংখ্যান দেখি তাতে যে আশ্বার্যান্বিত হতেই হয়। তাঁর লেখক জীবনের ছাপ্পান্ন বছরের মধ্যে প্রথম বিশ বছরে পাঁচটি, আর পরবর্তী ছত্রিশ বছরে কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ষাটটি!

বাংলা কবিতায় কালের প্রবাহে বহু মহাপুরুষ এসেছেন, তন্মেধ্যে কবি শামসুর রাহমান নিশ্চিতভাবেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ও কালোত্তীর্ণ নাগরিক কবি।

কবিতা - যদি তুমি ফিরে না আসো
কবির লিখা এ কবিতার আবৃত্তিটি তাঁর জন্য এ ক্ষুদ্র কবিয়ালের কিঞ্চিত শ্রদ্ধার্ঘ্য -

Comments

Popular posts from this blog

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

প্রিয় সুনীল, তোমাকে বিদায় বলিনি

অনেক অনেক সময় কেন নেই আমাদের। আমার খুব খুব প্রিয় সাহিত্যিকের একজন যার উপন্যাস পড়ে বড় হওয়া, যার চরিত্রগুলো পড়ে কখনো অনিমেষ, কখনো অর্ক হতে ইচ্ছে করতো আবার কখনোবা মাধবীলতার মতো কাউকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে তীব্র ইচ্ছে করতো, যাঁর কবিতা পড়ে জেনেছি কেউ কথা রাখেনা, অমলকান্তির বন্ধু হতে ইচ্ছে করতো সেই ছোটবেলার ভালোবাসা এমনকি বড়বেলার নায়ক যার মতো করে লিখতে চাই বাংলা সাহিত্যে সকল অলিগলিতে পদার্পণ করে, সেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যু দিবস। আজ ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের একদিকে যেমন জন্মদিন তেমনি সুনীলে প্রয়াণ দিবস। তাঁদের দুজনের কেউই আজ নেই এ ধরণীতে। তারপরেও তারা না থেকেই সবচেয়ে বেশীরকম আছে বাঙালীদের স্বত্তায়। সুনীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর লিখা কবিতা -

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...