Skip to main content

ছেরিস্লোক ---- মেহেদী হাসান তামিম

ছেরিস্লোক
মেহেদী হাসান তামিম


এ ছেরি, তোর নাকের ডগায় দেখছি বিন্দুবিন্দু ঘাম
সকাল বিকাল ঠিকমতো যপিস তোর ইশ্বরের নাম?
এ ছেরি, ভাতারকে ভালোবাসিসতো দিয়ে তোর জান
হোক অনিচ্ছা তোর, মিটাস তো মনমতো তার কাম?
এ ছেরি,শাশুড়ির মাথাতে দিসতো নিয়ম করে তেল
শ্বশুর ফিরলে ঘরে, বানাসতো ঠান্ডা শরবত-এ-বেল?
এ ছেরি,তোর ননদকে ঠিকমতো করিসতো সম্মান
শরীর খারাপ করলেও রাঁধবি, রাখতে ভাসুরের মান।
এ ছেরি, এতক্ষণ! কেমনতর মেয়েমানুষ বল দেখিনি
মাত্রতো একভার তরিতরকারি করিস যে বেচাকিনি?
এ ছেরি, দশবাড়ী দুধ দিতেই তো শেষ করিস দুপুর,
নোংরা কাপড়গুলো আনবে কে ধুঁয়ে, গিয়ে পুকুর?
এ ছেরি, কামচুন্নি তোরযে দেখি দিন নাই রাত নাই
সুযোগ পেলে বিছানায় পড়ে ফালতু গা এলানো চাই!
এ ছেরি, সারাদিন যদি এমনভাবে করিস শুধু শুই শুই
ছাদে গিয়ে কাপড়গুলো কে তুলবে, কে উঠবে মই?
এ ছেরি, সময় কিন্তু তোর ভীষণ কম, মাত্র ২৪ ঘন্টা
পুরো সময় করবি কাজ রাখতে চাইলে সব্বার মনটা।
এ ছেরি, তোর মাথা তো দেখি হয়েছে পুরাই খারাপ
কিসের আবার ছুটি! শিখায়নি তোকে কিছু তোর বাপ?

Comments

Popular posts from this blog

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

প্রিয় সুনীল, তোমাকে বিদায় বলিনি

অনেক অনেক সময় কেন নেই আমাদের। আমার খুব খুব প্রিয় সাহিত্যিকের একজন যার উপন্যাস পড়ে বড় হওয়া, যার চরিত্রগুলো পড়ে কখনো অনিমেষ, কখনো অর্ক হতে ইচ্ছে করতো আবার কখনোবা মাধবীলতার মতো কাউকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে তীব্র ইচ্ছে করতো, যাঁর কবিতা পড়ে জেনেছি কেউ কথা রাখেনা, অমলকান্তির বন্ধু হতে ইচ্ছে করতো সেই ছোটবেলার ভালোবাসা এমনকি বড়বেলার নায়ক যার মতো করে লিখতে চাই বাংলা সাহিত্যে সকল অলিগলিতে পদার্পণ করে, সেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যু দিবস। আজ ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের একদিকে যেমন জন্মদিন তেমনি সুনীলে প্রয়াণ দিবস। তাঁদের দুজনের কেউই আজ নেই এ ধরণীতে। তারপরেও তারা না থেকেই সবচেয়ে বেশীরকম আছে বাঙালীদের স্বত্তায়। সুনীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর লিখা কবিতা -

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...