Skip to main content

বুদ্ধ তোমার শরণ নিলাম♣ - মেহেদী হাসান তামিম



এক.
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি - আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম।
ধম্মং শরণং গচ্ছামি - আমি ধর্মের শরণ নিলাম।
সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি - আমি সঙ্ঘের শরণ নিলাম।

লুম্বিনি কানন, শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি তীর্থ
কপিলাবাস্তুর রাজা শুদ্ধোধনের পুত্রজন্ম সিদ্ধার্থ
মা রানি মহামায়া সাতদিন বাদ করিলে দেহত্যাগ
সৎমা মহাপ্রজাপতি গৌতমী হাতে লালন-পালন
এটাই তো তাঁর হেতুমূল গৌতম বুদ্ধ নামকরণ।

কপিলাবাস্তু নগরীতে প্রবেশিলেন সন্ন্যাসী কপিল
ভবিষ্যৎবানী গৌতম হবে সিদ্ধার্থ লভিবেন নির্বাণ
অথবা দিগবিজয়ী মহারাজা নয়তবা মানব মহান।

রাজকন্যা যশোধরাসাথ হল যে বিবাহ বয়স যখন ষোল
রাজার আশ উদাসীন পুত্র বিবাহে হবে সংসারসক্ত
পুত রাহুল এমনকি চার ঋতুর প্রাসাদেও নিরাসক্তি তার
পারেনা রুখতে সিদ্ধার্থে যা পিতৃরাজের চিন্তাপাহাড়।

সন্ন্যাসী সারথি ছন্দক সাথে দৈবচক্রে দেখা সিদ্ধার্থে
দেখালেন সে সাধু তাকে জগৎসংসার যে দুঃখময়,
মর্মোদ্ভেদ সিদ্ধার্থর মায়া রাজ্য সম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়।

বয়স যখন উনত্রিশ দুঃখোৎস খোঁজে করেন গৃহত্যাগ
ভ্রমি দূর বুদ্ধগয়ায় বসিলেন বছরছয় সাধনা কঠোর
বোধিবৃক্ষতলে নিরন্তর তপস্যাসাধনে লাভ বোধিজ্ঞান
পরম সম্পদ সে বুদ্ধ গৌতম জগত করিল অবলোকন।

দীক্ষা তাঁর মানবধর্ম তো শুধু একটাই নাম -অহিংসা
দিলেন সন্ধান কারণ ও নিরসন উপায় যত দুঃখদশা
দুঃখমূল কারন বাসনা নিরসন হবে তা পেলে নির্বান
বন্ধন যত ছিন্ন করে দুঃখমুক্তি তবেই লাভ নির্বানধন।

দিলেন বোধ মানবে ইহজন্মকর্মেই হয় নির্মান পরকাল
লোকভূমি আছে একত্রিশ সেথা করতে যে দেখভাল
অপয়া অপায় চার তার -পশুপাখিকুল, প্রেতলোক
অসুর দেবতাকূল এবং লোকভূমি নরক নাম তার ।

মানবজন্মে কর্ম যেমন বরাদ্দ তার তেমন ভূমিলোক
মাতৃহত্যা পিতৃহত্যা রক্তপাত জীবহত্যা নেই কোন ক্ষমা
মৃত্যু ওপারে সে মন্দচার অপায় নিশ্চিত তার জম্মজমা
বুদ্ধবাণী ইহজন্ম যার নিষ্ঠাপুণ্য মানবপ্রেমময় জীবন
জীবনপরে হয় শুধু তো তাঁর সাতাশ পুণ্যলোক ধারণ।

নির্দেশ বুদ্ধ'র করো জীবনে উদ্দেশ্য মুখ্য বোধিলাভ
সাধনায় হয় সত্য পাওয়া, ধর্ম লাভ আধ্যাত্মিকতায়।
জন্ম জরা রক্ত রোগ মৃত্যুসব হলো দুঃখ বাহক
বুদ্ধ শুধালেন দর্শন যে দুঃখনিস্তার নেই কারো
হোক মানব দরিদ্র, হোক সে বিশাল ধনীলোক।

দুঃখমূল হল কামনা-বাসনা করে সেসব ত্যাগ
মাঝে মাঝে আসবে সুখনিশি, নয়যে তা চিরনিবাসী
ওরে বোকা মানবসখা খাটি সুখ ভবে নেইতো কিছু
সবই দুঃখমিশেল, মরিসনে মিছে, ছুটে সে সুখপিছে।

দুই.

এ ধরায় ধর্ম সকল বলে - না কর পাপ তুমি হে মানব
সেথা যুগে যুগে বৌদ্ধধর্মে দর্শন তারা করেছে ধারণ,
"মোরা নির্মোহ, মোরা নিষ্কাম বোধি মোরা নির্বান
ধর্ম মোদের একটাই, একটাই মগ দর্শন দিনমান
অহিংসাই পরম ধর্ম, জীব হত্যা নিকৃষ্টতর মহাপাপ
জীবে দয়া করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ইশ্বর
হবে স্বর্গে বসতবাটি, সাতাশ লোককূল আবাসন তাঁর।"

যেথায় নির্বাণ ধর্মে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী হত্যাও মহাপাপ
(যেমন- যাবেনা মারা পিপীলিকা অথবা হোক তা সাপ)
করে কেউ হত্যা যদি কোন জান, কেঁপে ওঠে আসমান
নরককীট থেকেও অধম সে, পাপ তার জীবন সমান।

অন্তরে গড় সাদাদিল, ধবধবে ফর্সা হোক গেরুয়ামন
হে মানব, করো দৃষ্টিবর্ষণ দিয়ে দুটি বুদ্ধং শুদ্ধান্ত নয়ন।
কামনা বাসনাসহ ছিন্ন কর যত ভোগিচ্ছা মোহ আবরণ।

ভূলুণ্ঠিত হোক বুদ্ধ, তবু দেবনা বিন্দুমাত্র ভাগ সে ভূমি
জ্বলছে ঘর পুড়ছে শিশু হচ্ছে জীবহত্যা দিবসরজনী।
ডুকরে কাঁদিছে শুদ্ধোদন মা মহামায়া,কাঁদে যে গৌতমী
বুদ্ধদীক্ষা হয়যে আজ হত্যাশিক্ষা আর মৃত্যু মাতঙ্গিনী।

প্রাণীজ আমিষ ভোজনবিলাসে হয় যে তা জীবহত্যা
পাপ কি নয় হোক ভূমিদখল বা রক্ষায় মনুষ্যহত্যা!
বৌদ্ধ মরে যদি, মরে যদি হিন্দু মুসলিম বা রাখাইনেরা
মরেতো মানুষ, নয় কি জীব! এ মৃত শব মিছিলেরা!

শান্তি আনতে অশান্ত কাটে হয়ে বন্দিনী যে কত বছর
তবু যায় হারায়ে আরাধ্য সে শান্তিধাম অক্ষি অগোচর
মানবজন্মকে করে ধন্য হানাহানি আর তাজা রক্তবাণ
শত বাঁধা বহু তিতিক্ষার অবসানে রচে যিনি শান্তিকাব্য
জগত তাকে খুঁজে নেয় ঠিকি পড়িয়ে নোবেলমেডেল
তা প্রাপ্তিপরেও হয় ষড়যন্ত্রী দালাল ঠেলে যুদ্ধ হেঁসেল
আছে কেউকেউ পিশাচ মুছে শান্তিপাঠ লাল রচেন
বিশ্ব খায় ধোকা, বনে বোকা আদৌতে তারা ভিলেন।

নির্বাণ লাভে তো দুঃখ অবসান, কামনাবাসনা নিস্তার
আনে পূর্ণশান্তি ঘটায় সে নিরসন সকল রিক্ত অাধার।
বুদ্ধ তিনি যে জ্ঞানপ্রাপ্ত উদ্বোধিত জ্ঞানী জাগ্রতজন
বোধিলাভে গৌতম বুদ্ধ'র হবেনা ভবে আর আগমন।

ধর্মমতে আসিবে আবার কোন অবতার লভিতে নির্বাণ
শান্তিসৌম্য ধরণী, ছোঁয়াতে তাঁর সুশীতল হবে প্রাণ।
একালে সে একি ভূমিতে এ কেমন মৈত্রেয় বুদ্ধের উদ্ভব
যেথা দুঃশাসন ত্রাসনে চলে মনুষ্য হত্যাযজ্ঞ মহোৎসব।

বলো খুঁজি কোথা সে বোধিবৃক্ষ, কোথা পাই নির্বাণ!

Comments

Popular posts from this blog

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

♣------স্বাদ--------♣ ----------মেহেদী হাসান তামিম

সম্প্রতি সম্মানিত হজযাত্রীদের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ছোটগল্প - ♣----------------স্বাদ-----------------♣ *****মেহেদী হাসান তামিম রৌদ্রপ্রখরতা স্বাভাবিক থেকে হয়ত একটু বেশীই হবে, মনে হলো নান্টুর, অন্যান্য দিনে এসময়েই সেই পাসপোর্ট অফিসের সামনে যায় কিন্তু এ পরিমান ঘাম হয়না, কয়েকজন রিক্সাওয়ালাকেও দেখা যাচ্ছে হুড তুলে নিজের সিটে দুইপা আর যাত্রীর বসার সিটটিতে শুয়ে আরাম করছে, মনে হলোনা ডাকলে কেউ শুনবে। নান্টুরও সেই খররৌদ্রের ভিতর দিয়ে হাটতে ইচ্ছে করছিল না, চায়ের দোকানের পাশের ছেঁড়া চটের ছাদ দেওয়া রোদের বিপরীতে শুধু একটুখানি ছায়া সৃষ্টিকারী জায়গাটিকে দাঁড়ানোর জন্য বেছে নিল সে। চায়ের দোকানী ছেলেটার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম বেয়ে পড়ছে। কে জানে ওই ঘামের দু'এক ফোটা চায়ের কাপে পড়ে বলেই হয়ত তার চায়ের এত হাঁকডাক। প্রতিদিন বাসস্টপেজে নেমে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত রিক্সা ঠিক করে সেই রিক্সাচালককে নিয়ে এই দোকানে দু'কাপ চা খেয়ে, একটা স্টার সিগারেট আরাম করে ধরিয়ে তারপর রিক্সায় উঠে নান্টু। যে নান্টুর ঘন্টায় গড়ে এককাপ করে চা না খেলে হয়না সে বেশ কিছুদিন ধরে শুধু চা না কোনকিছুই খেয়...