ধ্রুপদ_সাহিত্য
ধ্রুপদ একদল চাকরিজীবী লোকজনের সাথে হাটছিল। অবশ্য জায়গাটি যেহেতু অফিসপাড়া মতিঝিল, আর সময়টা যেহেতু বিকাল পাচটা বেজে পাচ তাই সে ধরেই নিয়েছে আশেপাশে যাদের সাথে হাটছে তারা সবাই চাকুরীই করে থাকবে। তার কথা ফেলেও দেওয়া যায়না, যুক্তি আছে।
হাটছে হাটছে। তার যেদিকে ইচ্ছা। ওর তো আর অন্যদের মতো নির্ধারিত কোন গন্তব্য নেই। হাটতে হাটতে ইউনুস ট্রেড সেন্টারের দিকে এগুতেই একটা মানুষের জটলা দেখতে পেলে। ধ্রুপদের আবার এসব ব্যাপারে উৎসাহের কমতি নেই। এমনো অনেক দিন আছে রাস্তায় একটা কারের সাথে একটা রিক্সার ধাক্কা নিয়ে দুজন ড্রাইভার ঝগড়া করছে। এমনটা সে যদি শাহবাগ থেকে ৩নং বাসে ঠেলাঠেলি করে উঠে ভীড়ের মধ্যে চ্যাপ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফার্মগেটে এসে কোনমতে একটু বসার জায়গা পায়, তবু টঙ্গী যাবার সময় খিলক্ষেতে ঘটনা ঘটতে দেখলে সিট ছেড়ে দিয়ে অনুনয় বিনয় করে, তাতে কাজ না হলে ফাঁপড় মেরে হলেও বাস থেকে নেমে, তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে সে ঝগড়া দেখবে।
ট্রেডসেন্টারের সামনে গিয়ে কোনমতে শরীরটাকে জটলায় গলিয়ে দিয়েই খুব উৎসুক হয়ে সে উঁকিঝুকি মেরে ঘটনার মর্ম ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করল। সে যা দেখল তাতে কিছুই বুঝার উপায় নেই। একটা মানুষ বেশ কেতাদুরস্ত, ফুল স্লিভ ফরমাল শার্ট পরা তার উপরে আবার টাই, কাঁধে তেরচাভাবে ছোটখাটো একটা ব্যাগ ঝোলানো। সে মাটির দিকে ঝুকে, যেমনটি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ফিল্ডিং করার সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছে বল গেলে ঝুকে গিয়ে তা কুড়িয়ে ফেরত পাঠাতে হয়, তেমনি। গেরস্থ গরু হারিয়ে যেমনভাবে খোঁজে, যে মনের অবস্থায় পৌঁছালে বউকে বলা সম্ভব, " গরু হারালে এমনি হয় মা"- যেন সে লোকটির অবস্থাটাও সেরকম। হণ্যে হয়ে কি যেন খুঁজছে সে। একজন দুজন করে বেশ কজন ভদ্রস্থ লোকজন ওই লোকটির মতো করে ঝুকে খুব মনোযোগের সাথে হারিয়ে ফেলা যেন ভীষণ গুরুত্ববহ কিছু খুঁজতে শুরু করল। ধ্রুপদের মনে হলো কেউ বুঝি মহামূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলেছে, সবাই জানতে পেরে বাগিয়ে নেবার জন্য জিনিসটি এভাবে খুঁজছে। কিন্তু একে একে বেশ কজন যখন কোমরে ভর দিয়ে খুঁজতে শুরু করল তার খটকা লাগল। এবার সে আর ধৈর্য ধরতে না পেরে জটলা ঠেলেঠুলে যুবকের কাছাকাছি চলে এসে জিজ্ঞেস করল, ভাই এত মনোযোগ দিয়ে কি খুঁজেন?
লোকটা এমন একটা বিরক্তি নিয়ে ধ্রুপদের দিকে মাথা তুলে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে কোন উত্তর না দিয়েই খোঁজাতে মনোযোগ দিল যেন সে বিশাল বেকুবের মতো একটা প্রশ্ন করে ফেলেছে। ধ্রুপদ সে পাত্তাহীণতাকে পাত্তা না দিয়েই আবার প্রশ্ন করল," ভাই, বলেন না ভাই, কি খুঁজছেন, আমিও তো সাহায্য করতে পারি"। তার প্রশ্ন করার ধরণটা এমনি ছিল লোকটি এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল, " ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঢোঁক গিলে ধ্রুপদ আবার প্রশ্ন করল, " ভাই কি খুজছেন? "
লোকটি আবারো একি রকম নির্লিপ্ততায়য় উত্তর দিল,
" ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
ভাই সবাই মিলে তাই খুঁজছেন।
"জি, সবাই যার নিজনিজ মেরুদণ্ডই খুঁজছেন।"
ধ্রুপদ একদল চাকরিজীবী লোকজনের সাথে হাটছিল। অবশ্য জায়গাটি যেহেতু অফিসপাড়া মতিঝিল, আর সময়টা যেহেতু বিকাল পাচটা বেজে পাচ তাই সে ধরেই নিয়েছে আশেপাশে যাদের সাথে হাটছে তারা সবাই চাকুরীই করে থাকবে। তার কথা ফেলেও দেওয়া যায়না, যুক্তি আছে।
হাটছে হাটছে। তার যেদিকে ইচ্ছা। ওর তো আর অন্যদের মতো নির্ধারিত কোন গন্তব্য নেই। হাটতে হাটতে ইউনুস ট্রেড সেন্টারের দিকে এগুতেই একটা মানুষের জটলা দেখতে পেলে। ধ্রুপদের আবার এসব ব্যাপারে উৎসাহের কমতি নেই। এমনো অনেক দিন আছে রাস্তায় একটা কারের সাথে একটা রিক্সার ধাক্কা নিয়ে দুজন ড্রাইভার ঝগড়া করছে। এমনটা সে যদি শাহবাগ থেকে ৩নং বাসে ঠেলাঠেলি করে উঠে ভীড়ের মধ্যে চ্যাপ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফার্মগেটে এসে কোনমতে একটু বসার জায়গা পায়, তবু টঙ্গী যাবার সময় খিলক্ষেতে ঘটনা ঘটতে দেখলে সিট ছেড়ে দিয়ে অনুনয় বিনয় করে, তাতে কাজ না হলে ফাঁপড় মেরে হলেও বাস থেকে নেমে, তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে সে ঝগড়া দেখবে।
ট্রেডসেন্টারের সামনে গিয়ে কোনমতে শরীরটাকে জটলায় গলিয়ে দিয়েই খুব উৎসুক হয়ে সে উঁকিঝুকি মেরে ঘটনার মর্ম ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করল। সে যা দেখল তাতে কিছুই বুঝার উপায় নেই। একটা মানুষ বেশ কেতাদুরস্ত, ফুল স্লিভ ফরমাল শার্ট পরা তার উপরে আবার টাই, কাঁধে তেরচাভাবে ছোটখাটো একটা ব্যাগ ঝোলানো। সে মাটির দিকে ঝুকে, যেমনটি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ফিল্ডিং করার সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছে বল গেলে ঝুকে গিয়ে তা কুড়িয়ে ফেরত পাঠাতে হয়, তেমনি। গেরস্থ গরু হারিয়ে যেমনভাবে খোঁজে, যে মনের অবস্থায় পৌঁছালে বউকে বলা সম্ভব, " গরু হারালে এমনি হয় মা"- যেন সে লোকটির অবস্থাটাও সেরকম। হণ্যে হয়ে কি যেন খুঁজছে সে। একজন দুজন করে বেশ কজন ভদ্রস্থ লোকজন ওই লোকটির মতো করে ঝুকে খুব মনোযোগের সাথে হারিয়ে ফেলা যেন ভীষণ গুরুত্ববহ কিছু খুঁজতে শুরু করল। ধ্রুপদের মনে হলো কেউ বুঝি মহামূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলেছে, সবাই জানতে পেরে বাগিয়ে নেবার জন্য জিনিসটি এভাবে খুঁজছে। কিন্তু একে একে বেশ কজন যখন কোমরে ভর দিয়ে খুঁজতে শুরু করল তার খটকা লাগল। এবার সে আর ধৈর্য ধরতে না পেরে জটলা ঠেলেঠুলে যুবকের কাছাকাছি চলে এসে জিজ্ঞেস করল, ভাই এত মনোযোগ দিয়ে কি খুঁজেন?
লোকটা এমন একটা বিরক্তি নিয়ে ধ্রুপদের দিকে মাথা তুলে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে কোন উত্তর না দিয়েই খোঁজাতে মনোযোগ দিল যেন সে বিশাল বেকুবের মতো একটা প্রশ্ন করে ফেলেছে। ধ্রুপদ সে পাত্তাহীণতাকে পাত্তা না দিয়েই আবার প্রশ্ন করল," ভাই, বলেন না ভাই, কি খুঁজছেন, আমিও তো সাহায্য করতে পারি"। তার প্রশ্ন করার ধরণটা এমনি ছিল লোকটি এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল, " ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঢোঁক গিলে ধ্রুপদ আবার প্রশ্ন করল, " ভাই কি খুজছেন? "
লোকটি আবারো একি রকম নির্লিপ্ততায়য় উত্তর দিল,
" ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
ভাই সবাই মিলে তাই খুঁজছেন।
"জি, সবাই যার নিজনিজ মেরুদণ্ডই খুঁজছেন।"
Comments
Post a Comment