Skip to main content

মেরুদণ্ড ------- মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য


ধ্রুপদ একদল চাকরিজীবী লোকজনের সাথে হাটছিল। অবশ্য জায়গাটি যেহেতু অফিসপাড়া মতিঝিল, আর সময়টা যেহেতু বিকাল পাচটা বেজে পাচ তাই সে ধরেই নিয়েছে আশেপাশে যাদের সাথে হাটছে তারা সবাই চাকুরীই করে থাকবে। তার কথা ফেলেও দেওয়া যায়না, যুক্তি আছে।

হাটছে হাটছে। তার যেদিকে ইচ্ছা। ওর তো আর অন্যদের মতো নির্ধারিত কোন গন্তব্য নেই। হাটতে হাটতে ইউনুস ট্রেড সেন্টারের দিকে এগুতেই একটা মানুষের জটলা দেখতে পেলে। ধ্রুপদের আবার এসব ব্যাপারে উৎসাহের কমতি নেই। এমনো অনেক দিন আছে রাস্তায় একটা কারের সাথে একটা রিক্সার ধাক্কা নিয়ে দুজন ড্রাইভার ঝগড়া করছে। এমনটা সে যদি শাহবাগ থেকে ৩নং বাসে ঠেলাঠেলি করে উঠে ভীড়ের মধ্যে চ্যাপ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফার্মগেটে এসে কোনমতে একটু বসার জায়গা পায়, তবু টঙ্গী যাবার সময় খিলক্ষেতে ঘটনা ঘটতে দেখলে সিট ছেড়ে দিয়ে অনুনয় বিনয় করে, তাতে কাজ না হলে ফাঁপড় মেরে হলেও বাস থেকে নেমে, তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে সে ঝগড়া দেখবে।

ট্রেডসেন্টারের সামনে গিয়ে কোনমতে শরীরটাকে জটলায় গলিয়ে দিয়েই খুব উৎসুক হয়ে সে উঁকিঝুকি মেরে ঘটনার মর্ম ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করল। সে যা দেখল তাতে কিছুই বুঝার উপায় নেই। একটা মানুষ বেশ কেতাদুরস্ত, ফুল স্লিভ ফরমাল শার্ট পরা তার উপরে আবার টাই, কাঁধে তেরচাভাবে ছোটখাটো একটা ব্যাগ ঝোলানো। সে মাটির দিকে ঝুকে, যেমনটি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ফিল্ডিং করার সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছে বল গেলে ঝুকে গিয়ে তা কুড়িয়ে ফেরত পাঠাতে হয়, তেমনি। গেরস্থ গরু হারিয়ে যেমনভাবে খোঁজে, যে মনের অবস্থায় পৌঁছালে বউকে বলা সম্ভব, " গরু হারালে এমনি হয় মা"- যেন সে লোকটির অবস্থাটাও সেরকম। হণ্যে হয়ে কি যেন খুঁজছে সে। একজন দুজন করে বেশ কজন ভদ্রস্থ লোকজন ওই লোকটির মতো করে ঝুকে খুব মনোযোগের সাথে হারিয়ে ফেলা যেন ভীষণ গুরুত্ববহ কিছু খুঁজতে শুরু করল। ধ্রুপদের মনে হলো কেউ বুঝি মহামূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলেছে, সবাই জানতে পেরে বাগিয়ে নেবার জন্য জিনিসটি এভাবে খুঁজছে। কিন্তু একে একে বেশ কজন যখন কোমরে ভর দিয়ে খুঁজতে শুরু করল তার খটকা লাগল। এবার সে আর ধৈর্য ধরতে না পেরে জটলা ঠেলেঠুলে যুবকের কাছাকাছি চলে এসে জিজ্ঞেস করল, ভাই এত মনোযোগ দিয়ে কি খুঁজেন?
লোকটা এমন একটা বিরক্তি নিয়ে ধ্রুপদের দিকে মাথা তুলে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে কোন উত্তর না দিয়েই খোঁজাতে মনোযোগ দিল যেন সে বিশাল বেকুবের মতো একটা প্রশ্ন করে ফেলেছে। ধ্রুপদ সে পাত্তাহীণতাকে পাত্তা না দিয়েই আবার প্রশ্ন করল," ভাই, বলেন না ভাই, কি খুঁজছেন, আমিও তো সাহায্য করতে পারি"। তার প্রশ্ন করার ধরণটা এমনি ছিল লোকটি এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল, " ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঢোঁক গিলে ধ্রুপদ আবার প্রশ্ন করল, " ভাই কি খুজছেন? "
লোকটি আবারো একি রকম নির্লিপ্ততায়য় উত্তর দিল,
" ভাই, মেরুদণ্ড খুঁজছি।"
ভাই সবাই মিলে তাই খুঁজছেন।
"জি, সবাই যার নিজনিজ মেরুদণ্ডই খুঁজছেন।"

Comments

Popular posts from this blog

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

প্রিয় সুনীল, তোমাকে বিদায় বলিনি

অনেক অনেক সময় কেন নেই আমাদের। আমার খুব খুব প্রিয় সাহিত্যিকের একজন যার উপন্যাস পড়ে বড় হওয়া, যার চরিত্রগুলো পড়ে কখনো অনিমেষ, কখনো অর্ক হতে ইচ্ছে করতো আবার কখনোবা মাধবীলতার মতো কাউকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে তীব্র ইচ্ছে করতো, যাঁর কবিতা পড়ে জেনেছি কেউ কথা রাখেনা, অমলকান্তির বন্ধু হতে ইচ্ছে করতো সেই ছোটবেলার ভালোবাসা এমনকি বড়বেলার নায়ক যার মতো করে লিখতে চাই বাংলা সাহিত্যে সকল অলিগলিতে পদার্পণ করে, সেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যু দিবস। আজ ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের একদিকে যেমন জন্মদিন তেমনি সুনীলে প্রয়াণ দিবস। তাঁদের দুজনের কেউই আজ নেই এ ধরণীতে। তারপরেও তারা না থেকেই সবচেয়ে বেশীরকম আছে বাঙালীদের স্বত্তায়। সুনীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর লিখা কবিতা -

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...