Skip to main content

♣------স্বাদ--------♣ ----------মেহেদী হাসান তামিম

সম্প্রতি সম্মানিত হজযাত্রীদের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ছোটগল্প -

♣----------------স্বাদ-----------------♣
*****মেহেদী হাসান তামিম

রৌদ্রপ্রখরতা স্বাভাবিক থেকে হয়ত একটু বেশীই হবে, মনে হলো নান্টুর, অন্যান্য দিনে এসময়েই সেই পাসপোর্ট অফিসের সামনে যায় কিন্তু এ পরিমান ঘাম হয়না, কয়েকজন রিক্সাওয়ালাকেও দেখা যাচ্ছে হুড তুলে নিজের সিটে দুইপা আর যাত্রীর বসার সিটটিতে শুয়ে আরাম করছে, মনে হলোনা ডাকলে কেউ শুনবে। নান্টুরও সেই খররৌদ্রের ভিতর দিয়ে হাটতে ইচ্ছে করছিল না, চায়ের দোকানের পাশের ছেঁড়া চটের ছাদ দেওয়া রোদের বিপরীতে শুধু একটুখানি ছায়া সৃষ্টিকারী জায়গাটিকে দাঁড়ানোর জন্য বেছে নিল সে। চায়ের দোকানী ছেলেটার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম বেয়ে পড়ছে। কে জানে ওই ঘামের দু'এক ফোটা চায়ের কাপে পড়ে বলেই হয়ত তার চায়ের এত হাঁকডাক। প্রতিদিন বাসস্টপেজে নেমে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত রিক্সা ঠিক করে সেই রিক্সাচালককে নিয়ে এই দোকানে দু'কাপ চা খেয়ে, একটা স্টার সিগারেট আরাম করে ধরিয়ে তারপর রিক্সায় উঠে নান্টু। যে নান্টুর ঘন্টায় গড়ে এককাপ করে চা না খেলে হয়না সে বেশ কিছুদিন ধরে শুধু চা না কোনকিছুই খেয়ে শান্তি পাচ্ছেনা। চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়ালেও মোটেই তার চা খেতে ইচ্ছা করছেনা, পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে নিল। প্রতিবার ম্যাচ খুঁজতে পকেটগুলো হাতড়াতে হলেও এবারে প্যান্টের ডান পকেটে হাত দিতেই একটা ম্যাচবাক্স উঠে এলো কিন্তু তার ভেতরে একটি কাঠিও নেই। এমনতো হবার কথা নয়, নান্টুর স্পষ্ট মনে পড়ল গতকাল বাড়ীতে ফেরার পথে মিল্লাত মোড় থেকে ১টাকার কয়েন দিয়ে একটা ভরসা ম্যাচ কিনেছিল, তারপর এ পর্যন্ত হয়ত ১০-১২টা কাঠি ব্যবহার করেছে, কোন ভাবেই পুরো ম্যাচবাক্সতো শেষ হবার কথা নয়। আজব ঘটনা। নান্টুর আজকাল মনে হয় তার সাথে আজব আজব সব ঘটনা ঘটছে। এইযে আজ রিক্সা পেলনা, চা খেতে ইচ্ছে করেনা, নতুন ম্যাচবাক্স থেকে কাঠি উধাও সবই মনে হয় আজব ঘটনা।

কোন খাবার খেয়ে জিবে কোন স্বাদই যে পাচ্ছেনা, প্রথমে মনে করেছিল খাবারের মানটাই বোধহয় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যাচাই করার জন্য একদিন ভোরে ময়নার মাকেও কিছু না জানিয়ে সে নিজের গ্রামে গেল। বুড়ি মাকে গ্রামের বাজার থেকে সদাই করা বিভিন্ন পদের তরকারি ধরিয়ে দিয়ে রান্না করতে বলেই গায়ের পাশের ঘাগড়খালে ছোটবেলার দোস্ত-বন্ধুদের যাকে পেল নিয়ে মাছ ধরতে চলে গেল। নান্টু জন্মের পর থেকে যেভাবে খালটিকে দেখে এসেছে আজো ঠিক তেমন, প্রস্থে একটু ছোট হয়ে আসলেও পানির সেই টলটলে ভাবটা কিন্তু সেই একই। এই খালটির কয়েকবছর আগে পর্যন্ত একটা বিশেষত্ব ছিল এখানে মাছ ধরতে কেউ গেলে তাকে কখনই খালি হাতে ফিরতে হয়না। এই ঘাগড়খালের গল্প বহুবার নান্টু তার দাদার কাছে শুনেছে, তার দাদা তার দাদার কাছে শুনেছে, সেই দাদাও তার দাদার কাছেই হয়তবা এর কথা শুনে থাকবে। বিন্দুবাসী গ্রামের ইতিহাসের পরতে পরতে এই ঘাগড়খাল মিশে আছে। এখনকার জীবীতদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্কজন যে সেও খালের উৎপত্তির কথা বলতে পারেনা। নান্টুর আজো স্পষ্ট মনে আছে তাদের ভাইবোনদের জ্বর কিমবা যে কোন অসুখে তাদের আব্বা যখন জিজ্ঞেস করত,
- বাজান/মাজননী কন দিহি আপনের কি খাইতে মনে চায়?
তারা কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়াই একবাক্যে বলত ঘাগড়ের মাছ, অবশ্য এর বাহিরে তাদের অন্য কোন চেনা জগতই ছিলনা, তাদের আব্বাও জানত ছেলেমেয়েদের দৌড় সর্বোচ্চ ওই খালপাড় পর্যন্তই। তবু মনের শান্তির জন্য প্রশ্ন করেই তাদের বড়ভাইকে নিয়ে ছিপ বড়শি টোপের আধার এন্তেজাম করেই ছুটত খালপাড়ের দিকে। সন্ধ্যেবেলায় কুপি জ্বালিয়ে টিমটিমে আলোআঁধারিততে চুলার মধ্যে ভেজাখড়িতে ধোয়াময় আবহ তৈরী করে চোখের পানি মুছতে মুছতে বাঁশ দিয়ে বানানো বহুদিনের ব্যবহারে কালচে বর্ণ ধারন করা আগুনে হাওয়া দেবার চোঙে ফু দিতে দিতে, নিজেদের ক্ষেতের কাঁচামরিচের ঝালে মাখামাখা করে মৌরালা মাছের ভুনা তরকারী রান্না করত তাদের মা। এরপরে ভাই-বোন বাপ হারিকেনের আলোয় মাটির উঠোনে খরগুলোকে চাটাই এর মতো বিছিয়ে লাইন ধরে বসে পড়তো সবাই মিলে, মা কেও আব্বার জোড়াজুড়িতে একটা থালা নিয়ে তাদের সাথে খেতে বসতে হত। সেই অমৃত স্বাদের মিষ্টি মৌরালা মাছের হাল্কা ঝোলে ভাত খেয়ে নাকেরপানি চোখের পানিতে একাকার হয়ে যখন খাওয়া শেষ করত অসুখ-বিসুখ, রোগবালাই যেন পড়িমড়ি করে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যেত।

নান্টুর মধ্যে অত আবেগ-টাবেগ কখনোই টানেনা, শুধু একসাথে বসে খাবার সে দৃশ্যটির কথা মনে পড়লে তার মনের অজান্তেই চোখবেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে। বড় হবার পরে নান্টুর মনে একটা বাসনাই তীব্রভাবে নাড়া দেয়, বাপ-মা আর সব ভাইবোন মিলে ছোটবেলার মতো একসাথে বসে মৌরালা মাছের ঝাল তরকারী দিয়ে ভাত খাওয়া। ভাইবোনেরা জীবীকার প্রয়োজনে কে কোথায় কিভাবে আছে সেটাই অনেকসময় জানা থাকেনা নান্টুর, বাপ থেকেও নেই- বৃদ্ধ হয়েছে, পুরো শরীরেই বয়স ধরেছে, কাউকে চিনতে পারেনা, কারো সাথে কথা বলেনা, মা'য়ের শরীর ভালো থাকলেও চোখে ছানি পড়েছে, শুকিয়ে হয়েছে পাটখড়ির মতো, মাঝেমাঝে বহুকাল পরে নান্টু বাড়ীতে গেলে তাকে জয়নাল ভেবে ভুল করে। যদিও বাপ-মা, ভাই বোন, সন্তান সন্ততি কোনকিছুতে কোন অনুভব, আবেগ, টান কাজ করেনা নান্টুর তবুও গ্রামের নিজ বাড়ীতে ফিরে অপাংক্তেয় বাপ, দৃষ্টিবিভ্রমিত মায়ের সামনে দাঁড়ালে কেমন একটা অন্যরকম অনুভূতিতে ছেঁয়ে যায় নান্টুর শরীর মন সবকিছু। এই অনুভূতিটা কি সেটা কখনো বুঝতে পারেনা নান্টু, কখনো বোঝার চেষ্টাও করেনি সে।

সেইদিন খালথেকে মাছ ঠিকই ধরা পড়েছিল, বৃদ্ধা মা সর্বোৎকৃষ্ট যত্নে আর পরম মমতায় তা রান্নাও করে দিয়েছিল কিন্তু এতটুকু স্বাদ পায়নি নান্টু। মাছকেন্দ্রিক প্রতিটি চরিত্র, স্থান, পাত্রপাত্রী, উপাদান প্রায় কাছাকাছিরকম এক থাকলেও শুধু নান্টুর জিহবাটা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। অথচ সেবারের কয়েকমাস আগেও যখন খালপাড় থেকে ধরা মাছ মা রান্না করে দিয়েছিল, মনে হয়েছিল সেই ছোটবেলার অমৃতটিই যেন সেটি।

নান্টু জানে একটু হেঁটে সামনে এগোলেই একটা ফাঁকা রিক্সা পেয়ে যাবে, কিন্তু তার সেখান থেকে একটি পা নড়তে ইচ্ছে করছেনা, বরং খানিকদূরে দোকানের ভাঙা কাঠের বেঞ্চটিতে একপা উঠিয়ে বসা মানুষটির খাওয়ার দিকে দৃষ্টি থমকে গেল। তার পোষাকআষাক দেখে মনে হল হয়ত রিক্সা অথবা ভ্যানগাড়ি চালায়, পরণে ফুলহাতা গোলগলা গেঞ্জি, লুঙি, কাঁধে গামছা, লুঙিটার যা অবস্থা দূর থেকে একবার তাকিয়ে মনে হল তার শতবর্ষ আগের পুরনো, খুব ত্যানাত্যানারকম নরম, এককালে সেটা কি রঙের ছিল সেটাও এখন আর ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু নান্টুর চোখ বারবার আটকে যাচ্ছে ওই চায়ের কাপে ভিজিয়ে খাওয়া টোস্টবিস্কিটের দিকে। কি তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে, যেন পৃথিবীতে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ স্বাদের খাবার এই দোকানের চা আর টোস্ট। নান্টুর মনে হল সে একটা টোস্ট নিয়ে চায়ে ভিজিয়ে খায়। শরীরে রাজ্যের খিদে, কিন্তু কয়েকদিন ধরে একটাকিছুও খেতে পারছে না, যা কিছুই মুখে নেয় তার শরীর গুলিয়ে উঠে, তেতো একটা অনুভূতি শরীরের প্রতিটি বিন্দুতে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে, তার উপরে তার সাথে ঘটছে আজব সব ঘটনা। এমনকি ময়নার মাকেও তার এখন অসহ্য ঠেকে, ২৫ বছরের সংসার, এখনের মতো এত অসহ্য আর কখনো মনে হয়নি তাকে, বিছানায় শুতে গেলে ইদানীং তার মনে হচ্ছে ময়নার মা যেন একটা তেলচর্বির মোটা হোৎকা ড্রাম, শুলেই তিন সেকেন্ডের মধ্যে ঘৎঘৎ শব্দে এমন নাকডাকা শুরু করে যেন তার জীবনটা শান্তির সুবাতাসে ভরপুর, রাজ্যের সব চিন্তার ভার একা নান্টুর উপর। আগেও ময়নার মা একই শব্দে নাক ডেকেছে, ভেবে অবাক হয় সে কি করে এতটাকাল এই শব্দ টের পায়নি।

টোস্টবিস্কিটটি নিয়ে খানিকসময় চায়ের কাপে ভিজিয়ে মুখে নিতেই মনে হল তার পেটের নাড়িভুড়ি যেন সমস্ত শক্তিতে বের হয়ে আসবে, এত তেতো এত বিস্বাদ কিছু সেই লোকটা কিভাবে এত তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছিল ভেবে কোন কুল কিনারা পায়না নান্টু। বিস্কিট ছাড়াই শুধু চায়ের কাপে চুমুক দিতে কিছুক্ষন আগে বাসায় খেতে পারা খাটি গাওয়া ঘি দিয়ে বানানো লালআলুর ভর্তা দিয়ে দু'লোকমা ভাতটুকুও অসুরীয় শক্তিতে আপন বেগে ঠেলে বেরিয়ে নিজের ভাজ না ভাঙা প্যান্ট, টনটনে ইস্ত্রী করা শার্ট সবকিছু মাখিয়ে দিল, ঠিক যেন সেদিনের মতোই, বৃদ্ধাটিকে কথাটি বলার পর সে যেভাবে বমি করে নিজের পরণের কাপড়গুলোকে নষ্ট করে ফেলেছিল।

আশেপাশের লোকজন ভীষণ বিরক্তি আর ঘেন্না নিয়ে নান্টুর দিকে তাকালেও তার সেদিকে মাথাব্যথা নাই, তার মনে হলো একটা অপরাধ হয়ে গিয়েছে, বড় অপরাধ। বিন্দুবাসি গ্রামথেকে আসা দুঃসম্পর্কের ষাটোর্ধ বয়সের অনাত্মীয় চাচা চাচী এসে যখন বলল আজীবন অল্পঅল্প সঞ্চয় করে একসাথে কিছু টাকা জোগাড় করেছে হজে যাবে বলে, সবসময়ের মতো নান্টুর চোখদুটো চকচক করে উঠেছিল কথাটা শুনে। বিশ বছর ধরে নান্টু ঢাকা শহরে পাসপোর্ট ভিসা সংক্রান্ত দালালীর কাজ করে এটা গ্রামের সকলেই জানত, কাজেই দু'জন বুড়োবুড়িকে হজে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করে দেবার কাজটি তার ছিল জলবৎ তরলং ব্যাপার। দুজনের কাছে সবমিলিয়ে পঞ্চাশহাজার টাকা লাভ ধরে পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানটিকেট সব ব্যবস্থা প্রক্রিয়া শুরু করে তাদেরকে গ্রামে পাঠিয়ে দিল, ফ্লাইটের টিকেট কনফার্ম হলেই চলে আসতে হবে সেকথা বলে। সবকিছুই ঠিকমতো এগুচ্ছিল, দুজনের সব ব্যবস্থা হলো, ফ্লাইটের দিনক্ষণ ঠিক হল, সে মতো তারা ঢাকাতেও চলে এল। ঘটনাটা ঘটল ফ্লাইটের আগের দিন রাতে। নান্টুর দালাল বন্ধু বোরহান তাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে যা বোঝাল তার সারমর্ম হলো, হজের ফ্লাইট কয়েকটা বাতিল হওয়ায় হুট করে টিকেটের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে এবং সে একজন মক্কেল পেয়েছে যার সবকিছু রেডী কিন্তু টিকেট মিলছে না, নান্টু যদি একটা টিকেট তাকে দেয় তবে সে সেই যাত্রীকে অসুস্থ্য দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা করে একেকজনের লাভে মক্কেলকে টিকেটটি গছিয়ে দিতে পারবে। প্রথমে মনে সামান্য দ্বিধা এলেও একটুখানি ভাবল, ২৫ হাজার টাকা উপরি আয়ের কথা ভাবতেই মনে হল সেই সুযোগ নষ্ট করা ঠিক হবেনা, জীবনে তো আর সবসময় টাকা কামানোর সুযোগ আসেনা। বুড়োবুড়ির একজন এবার যেতে না পারলে ক্ষতি কি, পরেরবারে না হয় পাঠিয়ে দেবে। বোরহানকে বাহিরে দাঁড় করিয়ে তখনি তাকে একটা টিকেট এনে দিল।

বুড়োবুড়ি এহরাম বাঁধা অবস্থায় পরদিন নান্টুর দেওয়া সময়মতো এলে আশকোনায় হাজী ক্যাম্পের পাশে একটা ভাতের হোটেলে নিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসল। তারা খাওয়া শুরু করলে কথাটা পারল নান্টু। নানান কথাবার্তা বলে যেমাত্র বলা শেষ করেছে এবারের হজে তাদের মধ্যে যেকোন একজন যেতে পারবেনা অমনি বুড়ি বমির ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেলল। মুখের ভাত বুড়ির মুখ থেকে বমি হয়ে ছিটকে বেরিয়ে এসে তার এহরামবাঁধা সাদা ধবধবে কাপড়গুলো মাখিয়ে ফেলল। বুড়োবুড়ি ঘটনার তাৎপর্য কিছু বুঝের উঠার আগেই নান্টু বুড়োকে তুলে দিল সৌদিআরবের ফ্লাইটে আর বুড়িকে মাইক্রোবাসে বিন্দুবাসী গ্রামের পথে।

তার তিনদিন পরে নান্টু খবর পেয়েছিল গ্রামে ফেরার পরে আর একটি দানাও মুখে তুলতে পারেনি বুড়ি, সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তিনদিন ধরে অনাহারে থাকা শরীরটির মৃত্যু হয়।

বমি করার পরে চা দোকানের বেঞ্চটিতে ধপাস করে বসে পড়লে লোকজন তার দিকে ঘেন্নাদৃষ্টিতে তাকাতে থাকলেও নান্টুর চোখে ভাসছিল এয়ারপোর্ট থেকে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে তুলে দেওয়া স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ব্যথিত, ভেঙে চুড়মাড় হওয়া বুড়িটির ব্যাথাবিধুর নীলাভ বিষন্ন সেই মায়াময় মুখটি।

Comments

Popular posts from this blog

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...