Skip to main content

গদ্যকবিতা -- ♣ বরষা নামল বুঝি! ♣ -- মেহেদী হাসান তামিম

গদ্যকবিতা
♣ বরষা নামল বুঝি! ♣
মেহেদী হাসান তামিম

জানো কষ্ট কি!
কষ্ট নিয়ে আর কি বলি। কষ্ট উহ, কষ্ট আহা। কষ্ট ভোগায়, না ভাগে। কষ্ট বিবর্ণ, কষ্ট তিক্ত, নীল, কষ্ট বিশ্রী। কষ্ট ভীষণ রকমে কষ্ট, কি যে কুৎসিত মায়াবতী।তোমার জন্য সন্ধ্যাছটা, মৃন্ময়ী অব্যয়ী শরৎ। আমার তরে অবিরাম কাদামাখা বরষাকাল, স্নিগ্ধ সকালে খুব হুট করে নামা অজর বর্ষণ, জলধারা শ্রাবণ কখনো প্লাবন। কষ্ট নিভৃতচারী, থাকে বাঁধা। সে কাদাখোঁচা কাদাজল । দগদগে, থকথকে। মনের অজান্তে শরীরে রি রি তোলা জ্বালাতন, যায়না তাকে কভু এঢ়ানো, চায়না যেতে সে ছেড়ে। আমার মধ্যিখানে এ বর্ষাবসান নয়তো দু'মাস পরে, আজন্ম একান্তচারী সঙ্গীনি, যেন ছায়াসাথী। ছায়ারাও করে অভিমান রাতবিরাতের আধারে মাঝেমাঝে, যায় পালিয়ে। বর্ষা তো যায়না, কাদা যে যায়না। থাকে স্লেটকালো অন্ধকারে, থাকে আরো বেশী। সময়ে থাকে, অসময়ে আসে বেশীবেশী। সে নশ্বর চিরবিবাগী। সদা বিরাগী বছরবছর। কতবার সে সফেনের কাছে পর্যন্ত পৌঁছেছি! খুব কাছাকাছি। চাইলে হয়তবা এক লাফে ছোঁয়াও ছিল সম্ভব। সব সম্ভাবনা হয় খুন, হয় উদ্ধত খুনে ফেরারী। সম্ভাবনা ভেঙে কী স্পষ্টতায় 'সম্ভব' ও 'না' দুটি অক্ষর প্রপঞ্চে হয়ে যায় দ্বিদল !

রক্ত ঝরে কি!
ঝড়ে বৃষ্টি, ঝড়ে বর্ষা। যত আছে মেঘ কাল। নিঃসীম নির্দ্বিধায়। দৃষ্টিসীমানাতে এলেই এতো সুখ, ছোঁয়া সীমানায় এলে তবে সে সুখ হবে কেমন! সে কি তবে সুখসুনামি ভ্রমন! ছোয়া হয়নি, হলোনা তো এখনো। কাদায় পিছলে পরি বারবার, সব হয় পঙ্কিল কর্দমাক্ত । আমার বস্ত্র, অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ, ফুসফুস আর হয় বিরান হৃদয়োক্ত ভূমি । কাশফুল বুঝি আর ছোঁয়া যে হবেনা। ওই, দেখা যায় তবু, দোল খায়, দোলা দেয়, দুলছে হাওয়ায়। দুলছে ওই সুদূরে, ওই এলো সে ঝাপসা হয়ে।

এলো বুঝি সে!
সাদা, ধবধবে সাদা হয়ে যাচ্ছে ধূসর, হয়ে উঠে ধূধূ। উড়ছে, উড়ছে ওই হাওয়ায়, তার স্খলিত বসনাঞ্চল লুটোয় ধূলিকাময় ।

কিছু তার বারিষধারায়, কিছু তার অজানায়।

উড়ছে.....ওই....দুলছে…..সে.... লুটোচ্ছে ......
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে...... বুঝিবা এক্ষুনি.......
নামল কি!.... নেমে গেল..... নেমেছে..........

২৬/০৭/১৭

Comments

Popular posts from this blog

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

♣------স্বাদ--------♣ ----------মেহেদী হাসান তামিম

সম্প্রতি সম্মানিত হজযাত্রীদের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ছোটগল্প - ♣----------------স্বাদ-----------------♣ *****মেহেদী হাসান তামিম রৌদ্রপ্রখরতা স্বাভাবিক থেকে হয়ত একটু বেশীই হবে, মনে হলো নান্টুর, অন্যান্য দিনে এসময়েই সেই পাসপোর্ট অফিসের সামনে যায় কিন্তু এ পরিমান ঘাম হয়না, কয়েকজন রিক্সাওয়ালাকেও দেখা যাচ্ছে হুড তুলে নিজের সিটে দুইপা আর যাত্রীর বসার সিটটিতে শুয়ে আরাম করছে, মনে হলোনা ডাকলে কেউ শুনবে। নান্টুরও সেই খররৌদ্রের ভিতর দিয়ে হাটতে ইচ্ছে করছিল না, চায়ের দোকানের পাশের ছেঁড়া চটের ছাদ দেওয়া রোদের বিপরীতে শুধু একটুখানি ছায়া সৃষ্টিকারী জায়গাটিকে দাঁড়ানোর জন্য বেছে নিল সে। চায়ের দোকানী ছেলেটার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম বেয়ে পড়ছে। কে জানে ওই ঘামের দু'এক ফোটা চায়ের কাপে পড়ে বলেই হয়ত তার চায়ের এত হাঁকডাক। প্রতিদিন বাসস্টপেজে নেমে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত রিক্সা ঠিক করে সেই রিক্সাচালককে নিয়ে এই দোকানে দু'কাপ চা খেয়ে, একটা স্টার সিগারেট আরাম করে ধরিয়ে তারপর রিক্সায় উঠে নান্টু। যে নান্টুর ঘন্টায় গড়ে এককাপ করে চা না খেলে হয়না সে বেশ কিছুদিন ধরে শুধু চা না কোনকিছুই খেয়...