Skip to main content

গরীব vs বড়লোক ------- মেহেদী হাসান তামিম

ধ্রুপদ_সাহিত্য


সময় - সকাল ৮:৪০
স্থান - ৭ নং শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর

চরিত্র -
১) ধ্রুপদ - বয়স ৩৮ এর কাছাকাছি। কয়েকমাস হল বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এডমিন এর চাকরিতে যোগদান করেছে।
২) আক্কাস আলী - বয়স চল্লিশোর্ধ। ঢাকা শহরের আর দশজন রিক্সাচালকের মতোই রিক্সা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে। রাতে বাড়ী ফিরে, গরম ভাত খেয়েই বউয়ের শরীরে ঝাপিয়ে সুখ খুঁজে নেয়।

"ধুর মিয়া ফাজলামি করো আমার লগে! তুমি জানো আমি কে! কোন আক্কেলে তুমি ৫০ টাকা চাও! ধরো, ৪০ টাকা দিছি নিয়া বিদায় হও", কিছুটা গলা চরিয়েই কথাগুলো বলে ধ্রুপদ।

আক্কাস খানিকটা ভয়ে উত্তর দেয়, ভাইজান আপনে কে এইডা আমি কেমনে কমু। কাঁঠালবাগান ঢাল থাইকা এইহানে আইলে বেবাকে ৫০ টাকাই ত দেয়।

- তুমি মিয়া অযথা কথা বাড়াচ্ছ । ধরো এই ৪০ টাকা। নিলে নাও না নিলে ফোটো।

এবারে আক্কাস আলী আর কথা না বাড়িয়ে ৪০ টাকা নিয়েই বিদায় হয়। ধ্রুপদের মুখে একটা বিজয়ীর হাসি ফোটে। যাক ঝাঁড়ি মাইরা কাজ হইছে, দশ টাকা তো বাঁচানো গেল, কম কি!
**
সময় - ৮:৪১
স্থান - ৭ নং শেখেরটেক। ধ্রুপদের অফিসের সামনের রাস্তায় চা সিগারেটের দোকানে।

চরিত্র:
১) ধ্রুপদ
২) রিপন ম্যাও - বয়স ১৮ তে পা। ইন্টার পাশ করা এই ছেলেটি মাঝে মাঝে দারুণ সব দার্শনিক কথাবার্তা হুটহাট বলে ফেলে, একারণে তাকে ধ্রুপদের বিশেষ পছন্দ।ঠোঁটের উপরে হাল্কা গোফের রেখা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তার চোখের মনিগুলো পুরোপুরি বিড়ালের চোখের মতো ঘোলাটে। রাস্তায় বাপের ভ্যানগাড়ীতে চা সিগারেটের দোকানী। প্রতিদিন রুটিন করে সারাটা সকাল দোকানদারী করতে হয়। তার বাপ সারারাত দোকান চালিয়ে সকালের এই সময়টাতে ঘুমায়।
৩) আউয়াল সাহেব - বয়স ৫৫। বিশাল দাঁড়ি। আল্লাহওয়ালা মানুষ। এক ওয়াকত নমাজ কাজা করবেন না। তিনি ধ্রুপদের অফিসের কয়েকজন মালিকের একজন। ঘরে বৌ আর একমাত্র মেয়েকে নিয়মিত নামাজ, পর্দা মেনে চলাতে না পারলেও, অফিসে একজন স্টাফকে প্রতি ওয়াক্তে আযান দিয়ে নিজের ইমামতিতে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরর কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করেছেন। তার মনে এটাই সবচেয়ে বড়শান্তি যে ঘরে কাউকে ধর্মকর্ম না করাতে পারলেও অফিসে তো পারছেন।

রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটানোর সময় খ্যাঁচখ্যাঁচ করা ধ্রুপদের নিয়মিত অভ্যাস। তার এটা করতে খারাপ যে লাগে তাও নয়। বরং আসার সময় কোন রিক্সাওয়ালা যদি বলে, ভাই ভাড়াটা মিটমাট কইরা নেন, সে করবে না। উল্টা সে বলে, ভাই চলতো তোমারে আমি ঠকাব নাকি! ন্যায্য ভাড়াই পাইবা। আবার কোন রিক্সাওয়ালা যদি আগেই দামদর করতে চায় সে তার রিক্সাতেই উঠবে না। পাড়ার স্থানীয় রিক্সাচালকরা অনেকেই তাকে চিনে, কেউ আছে ধ্রুপদকে তার রিক্সাতেই তুলবে না।

এমনিতেই যদি ৯ টার আগে সে অফিসের সামনে চলে আসতে পারে তবে সে রিপন ম্যাওয়ের কাছে একটা বেনসন লাইট সিগারেট নিয়ে বেশ ধীরেধীরে এমনভাবে টানবে যেন প্রতি দমে দমে অমৃত সুধার স্বাদ আস্বাদন করছে।

অভ্যাসমতো ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো নয়টা বাজতে তখনো বেশ বাকী। হাত বাড়িয়ে রিপনের কাছে একটা সিগারেট নিয়ে ধরিয়ে ফেলল। দুই টান দিতে পারেনি সামনে এসে যে সেডান গাড়ীটা দাঁড়ালো সেটা তার বস আউয়াল সাহেবের। তিনি সাধারণত এত সকালে কখনো অফিসে আসেনা। ধ্রুপদ ভাবল কপালটাই খারাপ, তা নাহলে সেই ব্যক্তিটিকে কেন এত সকালে হাজির হতে হবে একমাত্র অফিসের যাকে সে শুধুমাত্র ভয় পায়। সাথে সাথে হতচকিতে আস্ত সিগারেটটা পায়ের তলায় দিয়ে গুড়িয়ে ফেলল।

আউয়াল সাহেব ধ্রুপদকে দেখেছে কিনা বোঝা গেলনা, গাড়ী থেকে নেমে তিনি লিফটে উঠে উপরে উঠে গেলেন।

রিপন এবারে ধ্রুপদকে যে কথাটা বলল তাতে সে একটা যেন বিশাল ধাক্কা খেল, সাথে সাথেই ধ্রুপদের মাথাটা চক্কর খেতে শুরু করেছে,
- স্যার আস্তা ১২ টাকা পায়ের নিচে ফেইলা গুঁড়ায়া দিলেন, আর প্রতিদিন রিক্সাওয়ালার সাথে ৫ - ১০ টাকার জন্য কি খ্যাচটাই না করেন। সেদিন স্যার আপনারে কাঁচা বাজারেও দূর থাইকা দেখলাম বেগুনের দাম দুই টাকা বেশী কোনভাবেই দিলেন না, আবারর বাজার থাইকা বাইর হইয়া চায়ে চিনি বেশী হইছে বইলা সেটা ফালায়া দিয়াও দাম ৫ টাকা তো ঠিকই দিলেন।
স্যার বড়লোকদের যত কিপটামি খালি গরীবের লগেই। সামনে দিয়া ৫ -১০ টাকা যাইতে দিবনা কিন্তু পেছন দিক দিয়া ৫- ১০ লাখ চইলা গেলেও কোন হুশ নাই।

Comments

Popular posts from this blog

পুড়ে যাচ্ছি আমি, পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর

পুড়ে যাচ্ছি আমি , পুড়ে যাচ্ছে অন্তপুর আমার চোখে পড়েছে তোর চোখ তাতেই পুড়ে চৌচির , তাতে শুরু সকল দুঃখ শোক অবিরাম রচে চলেছি দুঃখ সমার্থক পুড়ে পুড়ে হই আমি অঙ্গার তিলক । ফিরিয়ে নিয়ে চোখ , করেছো তুমি বেশ বেশ করেছ ! পুড়ে আমি হয়েছি শেষ । ভ্রষ্টপাখি হারায় না নষ্ট দীপান্তরে। ভেবে দেখ , দৃষ্টি তুমি ফিরিয়ে নিয়েই বাঁধন ছিঁড়ে মিটিয়ে দিয়ে , সকল নিয়ে দিয়েছো দিশা নতুন পথ , গড়েছ আগুনবাজ। বেশ করেছো ঠিক করেছো , অগ্নি করে রাজ । হতনা কভু যে নিরিবিলি সড়কসন্ধান তপ্ত ছোঁয়ায় তাপের আঁচে সৃষ্টি যত যাচ্ছে পুড়ে পুড়ে , পুড়ছে সুর তাল , পুড়ে বিবেক শান্তিপুকুর। পুড়ে হচ্ছি ছাড়খার , পুড়ে চুরচুর। চোখ ফিরিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে বেশ করেছো। আহাহা বেশ। আবেগসাগরে ভাসিয়ে নিয়ে। বেশ করেছো ! বেশীরকম বেশ । বেঁচে আছি তাই দেখছি যে ছল মিছিলে দেখেছি পাখিদের মৃত্যুঢল ফিরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলে ভালোবাসি ঠিক কত বেশী ! বাসি ভাল ঐ আঁখিকোণে কাজল। ছিলেনা তুমি হৃদয়হীণা ছিলেনা কভু পাষানবীণা তুমিই , শু...

পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস -- ♥♣নিরুপায় পুরুষ♦♠. মেহেদী হাসান তামিম

★পুরুষ নির্যাতনের ছোটছোট গল্প নিয়ে উপন্যাস★ পাঠকের বিপুল উৎসাহ আর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে উপন্যাসটির প্রথম কয়েকটি পর্ব প্রকাশ করা হলো। "পুরুষ নির্যাতন" এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে পাঠকের মন্তব্য অতি গুরুত্বের সাথে গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে তা উপন্নাসে সন্নিবেশিত হবে। আশা করছি পুরুষ নির্যাতন উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ ও ভালোবাসা কুঁড়াবে। সাথেই থাকুন, চলুন পাঠক আর লেখকের সম্মিলিত প্রায়াসে লিখা হোক " পুরুষ নির্যাতন" নামক সুবিশাল এই উপন্যাস। আরো একটি বিশেষ কথা যে কেউ, যেকোন পাঠক উপন্যাসের ধরাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন যে কোন চ্যাপ্টার , অধ্যায়, প্যারা প্রবেশ করাতে পারবেন এবং তাঁর নামও লেখক হিসেবে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা থাকবে। চলুন শুরু করি আমাদের প্রজেক্ট : লেখকের সাথে পাঠক। (পুরুষের জন্য লিখা মানেই নারীবিরোধী না। নারীদের প্রতি শতভাগ সম্মান আমার ছিল, আছে, থাকবে। নারীদের জন্য তো আমরা সবাই আছি, আইন আছে, সরকার আছে। কিন্তু পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের আসলেই দাঁড়াবার কোথাও কোন জায়গা নেই। আশেপাশে ঘটে চলা এই ঘটনাগুলো আমি আমার নতুন উপন্যাস "নিরুপায় পুরুষ" এ তু...

♣------স্বাদ--------♣ ----------মেহেদী হাসান তামিম

সম্প্রতি সম্মানিত হজযাত্রীদের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ছোটগল্প - ♣----------------স্বাদ-----------------♣ *****মেহেদী হাসান তামিম রৌদ্রপ্রখরতা স্বাভাবিক থেকে হয়ত একটু বেশীই হবে, মনে হলো নান্টুর, অন্যান্য দিনে এসময়েই সেই পাসপোর্ট অফিসের সামনে যায় কিন্তু এ পরিমান ঘাম হয়না, কয়েকজন রিক্সাওয়ালাকেও দেখা যাচ্ছে হুড তুলে নিজের সিটে দুইপা আর যাত্রীর বসার সিটটিতে শুয়ে আরাম করছে, মনে হলোনা ডাকলে কেউ শুনবে। নান্টুরও সেই খররৌদ্রের ভিতর দিয়ে হাটতে ইচ্ছে করছিল না, চায়ের দোকানের পাশের ছেঁড়া চটের ছাদ দেওয়া রোদের বিপরীতে শুধু একটুখানি ছায়া সৃষ্টিকারী জায়গাটিকে দাঁড়ানোর জন্য বেছে নিল সে। চায়ের দোকানী ছেলেটার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম বেয়ে পড়ছে। কে জানে ওই ঘামের দু'এক ফোটা চায়ের কাপে পড়ে বলেই হয়ত তার চায়ের এত হাঁকডাক। প্রতিদিন বাসস্টপেজে নেমে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত রিক্সা ঠিক করে সেই রিক্সাচালককে নিয়ে এই দোকানে দু'কাপ চা খেয়ে, একটা স্টার সিগারেট আরাম করে ধরিয়ে তারপর রিক্সায় উঠে নান্টু। যে নান্টুর ঘন্টায় গড়ে এককাপ করে চা না খেলে হয়না সে বেশ কিছুদিন ধরে শুধু চা না কোনকিছুই খেয়...